স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২৩ সেপ্টেম্বর : কৃষি দপ্তরের জমি দখল ঘিরে দফায় দফায় পরিদর্শনে কৃষি দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকরা। সম্প্রতি বিলোনিয়া মহকুমার রাজনগর ব্লকের অন্তর্গত দক্ষিণ রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কৃষি দপ্তরের রাজনগর কৃষি মহকুমার পক্ষ থেকে রাবার গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তিপ্রা মথা দলের পক্ষ থেকে রাজনগর কৃষি মহকুমা অফিসে তালা লাগিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি করতে চাইলে পুলিশের সাথে তিপ্রা মথা দলের কর্মীদের সাথে ধস্তাধস্তি হয় এবং পরবর্তী সময়ে হুমকিও প্রদান করা হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার কৃষি দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা শান্তনু দেববর্মা, দক্ষিণ জেলার যুগ্ম অধিকর্তা সুমিত কুমার সাহা, আগরতলা হটিকালচার অফিসের যুগ্ম অধিকর্তা অরুপ কুমার দেব সহ স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা। পরে আধিকারিকরা জানান, যে জায়গাতে রবার বাগান কাটা হয়েছে সে জায়গাটি দীর্ঘ ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কৃষি দপ্তরের অধীনে রয়েছে। প্রায় ১১৯ হেক্টর অর্থাৎ ৬০০ কানিরও বেশি জায়গা রয়েছে কৃষি দপ্তরের রাজনগর কৃষি মহকুমার অধীন। এখানে কাজুবাদাম ও ফলের বাগান রয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু জায়গা দখল করে রাবার বাগান করে দিয়েছে কিছু স্বার্থান্বেষী লোকজন। ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে ফলের বাগান। কেটে ফেলা হয়েছে বহু কাজুবাদাম গাছ।
ইতিমধ্যে আবার নতুন করে মনা ধন ত্রিপুরা, দিপালী দাস ,সুজিত দাস, জয় শংকর দাস সহ বেশ কিছু লোক রাবার বাগান লাগিয়ে দিয়েছে কৃষি দপ্তরের এই সংরক্ষিত এলাকায়। এই জায়গাটি এডিসি এলাকায় নয়, সাধারণ এলাকা। এবং গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার অধীন। স্থানীয়রা জানায়, মনা ধন ত্রিপুরা তিপ্রা মথা দলকে দিয়ে এই শান্তিপূর্ণ এলাকায় যে উশৃংখল অবস্থা সৃষ্টি করেছে তাতে করে এলাকার দীর্ঘ বছরের শান্তি সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও এই রাবার বাগান স্বপক্ষে মনা ধন ত্রিপুরার যে তথ্য দিয়েছেন তাতে দেখা গেছে এই জায়গা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে রয়েছে মনা ধন ত্রিপুরার জোত জায়গা যেখানে তিনি বর্তমানে ধান চাষ করে সুখে জীবন যাপন করছেন। স্থানীয়দের বক্তব্য পাহাড়ি বাঙ্গালীদের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট করার এটি একটি প্রয়াস। অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি এই বাগান রক্ষার্থে দপ্তর জন্য অতি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য।

