Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্যশহরে বামের মিছিল থেকে বিজেপি এবং পুলিশ আধিকারিকদের কড়া হুঁশিয়ারি রতন দাসের

শহরে বামের মিছিল থেকে বিজেপি এবং পুলিশ আধিকারিকদের কড়া হুঁশিয়ারি রতন দাসের

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২০ সেপ্টেম্বর : শুক্রবার রাতে রাজধানীর সিপিআইএমের প্রতাপগড় দলীয় কার্যালয় বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় দুষ্কৃতিকারীরা। অপরদিকে উদয়পুর মির্জা এলাকায় বাড়িতে প্রবেশ করে এক গৃহবধূকে আক্রমণ করে, পরবর্তী সময় অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার হয় গৃহবধূ। রাজ্যজুড়ে এ ধরনের অরাজকতার সঙ্গে জড়িত শাসক দল বিজেপি। এর প্রতিবাদে ডি-ওয়াইএফআই, এসএফআই এবং এ আই ডি ডব্লিউ এ -র পক্ষ থেকে এক বিক্ষোভ কর্মসূচি সংঘটিত করা হয় আগরতলা শহরে।

 বিক্ষোভ মিছিলের পর পুলিশের সদর কার্যালয়ে ঘেরাও করতে যায় বামপন্থী তিন সংগঠনের কর্মী সমর্থকরা। পুলিশ বিক্ষোভ মিছিল ফায়ার সার্ভিস চৌমুহনী এলাকায় পৌঁছানোর আগেই আটকে দেয়। মিছিলে বিক্ষোভ কারীদের সঙ্গে পুলিশের দীর্ঘক্ষণ চলে ধস্তাধস্তি। তারপর সেখানেই রাস্তায় ঢুকে দেয় বামপন্থী কর্মী সমর্থকরা। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা কমিটির সম্পাদক রতন দাস, সি আই টি ইউ রাজ্য কমিটির সভাপতি মানিক দে, ডি ওয়াই এফ আই -র প্রাক্তন নেতা তথা সিপিআইএম নেতা অমল চক্রবর্তী, ডি ওয়াই এফ আই রাজ্য সম্পাদক নবারুণ দেব সহ অন্যান্যরা। এদিকে একটি প্রতিনিধি দল পুলিশের সদর কার্যালয়ে এআইডিজিপি -র কাছে গিয়ে ডেপুটেশন দেন। ডেপুটেশনের পর সিপিআইএম পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা কমিটির সম্পাদক রতন দাস এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, পুলিশের কাছে গিয়ে দাবি জানানো হয়েছে অবিলম্বে যাতে দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ আধিকারিক ধ্রুব নাথ আশ্বস্ত করেছেন, সাধ্যমত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কিন্তু অতীতেও এ ধরনের আশ্বাস পেয়েছে প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএম।

কিন্তু বাস্তবে কার্যকরি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। রতন দাস আরো বলেন, পুলিশ দর্শক, পুলিশ দুষ্কৃতিকারীদের পরোক্ষে সহযোগিতা করেছে। নাহলে পুলিশ সাথে সাথেই বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করত। পুলিশের যে এটা দায়িত্ব সেটা বোঝার যোগ্যতা আছে। সুতরাং পুলিশকে শিখিয়ে দিতে হবে না। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশে পুলিশের মেরুদন্ড বাঁকা হয়ে গেছে এবং ভেঙে গেছে। বিজেপির উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, “যা করছো তা ভালো করছ না। একদিন এর উত্তর দিতে হবে। গণতন্ত্র এভাবে খতম করা যায় না।” একই সাথে পুলিশ অধিকারিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা ত্রিপুরার ছেলে, আমারও ত্রিপুরার ছেলে। আপনারা নিপেন চক্রবর্তী, মানিক সরকার দেখেছেন। সেই সময় এমন কোন ঘটনা সংঘটিত হয়েছে কিনা প্রশ্ন তোলেন রতন দাস? তবে জেনে রাখুন যেসব পুলিশ অফিসার আজকে এই অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না তাদেরও একদিন না একদিন জবাব দিতে হবে। এটাই গণতন্ত্র ও সংবিধানের ভাষা। একই সাথে উদয়পুর মির্জার গৃহবধূ কোন কাণ্ডে জড়িত শাসক দলের বিধায়কের ভাইপোর ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন দলে যদি কোন নেতা মা-বোনের মর্যাদা, রক্ষা করতে চান তাহলে দলের সমাজ বিরোধীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ করুন। তিনি আরো বলেন প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগের। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি করা হচ্ছে। নাহলে আন্দোলন রুখতে পারবে না তারা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য