স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর :শহর আগরতলায় সংস্কৃতির পীঠ স্থানের নাকের ডগায় অপসংস্কৃতির আসর কতটা কাম্য ? তা নিয়ে রাজ্য জুড়ে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছিল। কারণ রবীন্দ্র স্মৃতি বিজড়িত রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সামনেই রয়েছে রোজভ্যালির পুরাতন বিল্ডিং। এই বিল্ডিং-এর চার তলায় রয়েছে নগর উন্নয়ন ভবন। তার ঠিক উপরের তালায় সম্প্রতি খোলা হয়েছিল হ্যাপিয়েস্ট অ্যাওয়ার নামে বার কাম নাইট ক্লাব। উদ্বোধনের দিনই এই বার কাম নাইট ক্লাবে দেখা দেয় ঝামেলা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ছুটে যেতে হয় পুলিশকে।
উদ্বোধনের দিন বার কাম নাইট ক্লাবে আসা এক ব্যক্তি ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন ওনার কাছে পাস থাকা সত্ত্বেও বারে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় নি। তিনি এই বার কাম নাইট ক্লাবে কি হয় তা দেখতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ওনাকে বার কাম নাইট ক্লাবে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় নি। মেয়ে বন্ধুকে সাথে নিয়ে আসলে তবেই তিনি বার কাম নাইট ক্লাবে প্রবেশ করতে পারবেন। এই বার কাম নাইট ক্লাবকে নিয়ে ইতিমধ্যে স্থানীয় সাধারন মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিরুপ প্রতিক্রিয়া। রবীন্দ্র ভবনের সামনে এই বার কাম নাইট ক্লাবের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ছিল কংগ্রেস। তারপরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। মঙ্গলবার এই বারের লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ দেয় পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা শাসক। তারপর এই বিষয়ে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন নিজ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, এইবার খোলার জন্য বৈধ কোন কাগজপত্র ছিল না।
মুখ্যমন্ত্রী নিজেই দাবি করেছেন উনার অগোচরে চাপ সৃষ্টি করে দেওয়া হয়েছিল বারের লাইসেন্স। যাইহোক আজ বারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। গোটা প্রক্রিয়াটি অবৈধ ছিল। তাই এখন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি যারা ওনার অগোচরে অবৈধভাবে এই বারের লাইসেন্স দিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে যাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কারণ এই বারের মধ্যে ফায়ার ব্রিগেড এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের এনওসি ছিল না। পাশাপাশি যে বিল্ডিং -এর মধ্যে এই বার খোলা হয়েছিল সেটাও পুরোপুরি অবৈধ। আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো ট্রেড লাইসেন্সের শুধুমাত্র রেস্টুরেন্টের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। এতকিছু গরমিল থাকার পরেও লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। তাই যারা বেআইনিভাবে বার খুলতে সহযোগিতা করেছে তাদের বিরুদ্ধে যাতে শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।

