Thursday, February 5, 2026
বাড়িরাজ্যআনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের পক্ষ থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর তীব্র নিন্দা

আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের পক্ষ থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর তীব্র নিন্দা

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৩ সেপ্টেম্বর: গত ৩১-শে আগষ্ট তেলিয়ামুড়ায় বাম যুব সমাবেশে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেছেন, আনন্দমার্গ নাকি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। বুধবার কলেজ টিলা স্থিত আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে তীব্র নিন্দা জানান সচিব আচার্য কৃতাত্মানন্দ অবধূত। তিনি বলেন, কথায় আছে চোরের মার বড়ো গলা। একই অবস্থা কমিউনিষ্ট নেতৃত্বের। সন্ত্রাসী দল বলে এই দলটি এখন দেশে বিদেশে গণবর্জিত। বিশ্বের কোথাও তাদের আর এখন গ্রহন যোগ্যতা নেই।

কমিউনিষ্টদের পিতৃভূমি বলে কথিত সোভিয়েত রাশিয়া থেকেও তারা বিতাড়িত। কামান দেখে হাজার হাজার ছাত্র হত্যা করে কায়ক্লেশে চীনে ওরা বেঁচে আছে। ভবু তাদের লজ্জা হয় না। এ অবস্থায় দাঁড়িয়েও গত ৩১-শে আগষ্ট তেলিয়ামুড়ার এক বাম যুব সমাবেশে এই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেছেন, আনন্দমার্গ নাকি আন্তজাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। অথচ তারা ক্ষমতায় আসার পর ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গে ভয়ংকর সন্ত্রাস চালিয়ে ছিল। তাদের রাজত্বে তাদেরই ক্যাডারদের হাতে খোয়াইতে প্রকাশ্য দিবালোকে নির্দল গ্রাম প্রধান নৃপেন্দ্র দেবনাথ ও কংগ্রেস নেতা দীপঙ্কর নাথশর্মা খুন হয়, তেলিয়ামুড়াতে সরলা বিশ্বাস, রাষ্ট্র বিশ্বাস, বিশ্রামগঞ্জে নিয়াই বীদ, বিশালপাড় মাখনলাল সাহা, ছৈলেংটাতে ধীরেন্দ্র সরকার, পারেন্দ্র সরকার, তিলখৈতে আমরা বাঙালির গ্রাম প্রধান প্রসন্ত নাথ সহ অগণিত বিরোধী দলীয় কর্মী সমর্থকদের খুন করা হয়।

এছাড়া ধর্মনগরের পাঁচ জন নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। শুধু তাই নয়, আগরতলা কলেজটিলাম্বিত আনন্দমার্গ স্কুল সহ বিভিন্ন আনন্দমার্গ স্কুল তারা পুড়িয়ে দেয়। ১৯৮০ সালের ৬-ই জুন সি.পি.আই.এম বিধায়ক তথা নেতা রসিরাম দেববর্মার নেতৃত্বে মান্দাইয়ে গণহত্যা চালানো হয়। এছাড়া একই সময়ে তারা সারা রাজ্যে হাজার হাজার মানুষকে খুন করে। তারা যতদিন ক্ষমতায় ছিল এই ধারা অব্যাহত থাকে। প্রথমে তাদেরই ঘরের ছেলে ললিত দেববর্মাকে দিয়ে এ.টি.টি.এফ এবং পরে বর্তমান বিধায়ক তথা তৎকালীন জঙ্গি নেতা রণজিৎ দেববর্মাকে নিয়ে টিম গঠন করে কয়েক হাজার মানুষকে খুন করা হয়। লক্ষলক্ষ মানুষের বড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয় ও স্বভূম থেকে বিতাড়িত করা হয়। পশ্চিম বঙ্গেও কমিউনিষ্টরা একই ধরনের সন্ত্রাস কায়েম করেছিল। ১৯৮২ সালের ৩০-শে এপ্রিল ভারা শতাব্দী প্রাচীন কলকাতার বিজন সেতু ও বন্ডেল গেট এলাকায় এসিড দিয়ে পুড়িয়ে গায়ে আগুন লাগিয়ে আনন্দমার্গের ১৭ জন সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী সন্ন্যাসিনীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। শুধুমাত্র বিজন সেতুতেই নয়, ১৯৬৭ সালের ৫-ই মার্চ পুরুলিয়ার আনন্দনগরে আনন্দমার্গের পাঁচজন, ১৯৬৯ সালে কোচবিহারের রবি সরকারকে ও ১৯৯০ সালের ২-রা এপ্রিল কৃষি বিজ্ঞানী আচার্য অসীমানন্দ অবধূত সহ পাঁচজনকে এই কমিউনিষ্টরা নৃশংসভাবে খুন করেছিল।

এছাড়াও তারা মরিচঝাঁপির গণহত্যা, সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের গণহত্যা এবং সাঁইবাড়ির গণহত্যা সহ আরও অনেক হত্যা কান্ড সংঘটিত করেছে। উপরের দৃষ্টান্তগুলি সিন্ধুতে বিন্দুবৎ। এরপরেও তারা আনন্দমার্গকে সন্ত্রাসবাদী সংঘটন বলে কোন সাহসে? আনন্দমার্গের বিজয় রথ ক্রমেই এগিয়ে যাওয়ায় তারা আজ ভীত হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যেই বিশ্বের ১৮২টি দেশে আনন্দমার্গ ছড়িয়ে পড়েছে। সুপ্রীমকোর্ট আনন্দমার্গকে ধর্মীয় সংঘটন হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। মোট ১৩ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে আনন্দমার্গের প্রাউট দর্শন ও নব্য মানবতাবাদ স্থান করে নিয়েছে, আনন্দমার্গ ইউনিবার্সাল রিলিফ টিম আজ রাষ্ট্রসংঘ স্বীকৃত একটি সেবা প্রতিষ্ঠান। এ অবস্থায় মানিকবাবুরা বুঝতে পেরেছেন তাদের দিন ফুরিয়ে আসছে। তাই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পাগলের প্রলাপ বকছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপপ্রচার করা হলে গণআন্দোলনের নামবে বলে হুশিয়ারি দেন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য