স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৩ সেপ্টেম্বর: রাজ্যের ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার প্রতিদিন ঢোল পিটিয়ে জনজাতি দরদ প্রকাশ করছে। অথচ রাজ্যের পাহাড়ে শিক্ষা পরিকাঠামো কতটা অবনতি ঘটছে সেটা চাক্ষুষ না করলে বিশ্বাস করা কঠিন। চরম অবহেলায় সরকারি বিদ্যালয় মুখী হতে চাইছে না ছাত্র-ছাত্রীরা। বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যালয় গুলি। এর জীবন্ত উদাহরণ করবুকের উত্তর চেলাগাঙ এডিসি ভিলেজের সমতল পাড়ার দেবী চান পাড়া উত্তর চেলাগাঙ উচ্চ বুনিয়াদি বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ে অভিভাবকরা ছেলে মেয়েকে ভর্তি করাতে অনিচ্ছুক। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে চারজন শিক্ষক-শিক্ষিকা থাকলেও ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা মাত্র ২৩ জন।
কেন এমনটা হচ্ছে? কেন এলাকাবাসী তাদের ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে চাইছে না? এলাকাবাসীদের অভিযোগ পঠন পাঠনের জন্য পরিকাঠামোগত অনেক অভাব রয়েছে এই বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন বিদ্যালয়ে কোন দেওয়াল না থাকায় প্রায় সময় বিদ্যালয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ চালায় আশেপাশের যুবকরা। প্রায় প্রতি রাতেই সমাজদ্রোহীরা বিদ্যালয়ে প্রাঙ্গনে মদের আসর বসায়। বিদ্যালয়ের এদিকে ওদিকে মদের বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে এসে এসব দেখলে তাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয় কোন বিজ্ঞান শিক্ষক নেই। আরো আশ্চর্যের বিষয় হল বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের মাদুর বিছিয়ে পড়াশোনা করতে হয়। পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যঞ্চ নেই। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ২৩ জন ছাত্রছাত্রী থাকলেও বসার বেঞ্চ রয়েছে মাত্র আটটি। এমনকি বিষয়টি নিয়ে আই এস অফিসে পর্যন্ত দুবার জানানো হয়েছে। অথচ কোনরকম সাড়া মিলেনি বলে জানান শিক্ষক।
আরো লক্ষ্য করা যায় নিমন্ত্রণ বাড়ির খাবারের টেবিলে বসে শিক্ষক মশাই পাঠদান করছেন ছাত্রছাত্রীদের। বিদ্যালয় পরিচালন কমিটি থাকলেও শাসকদলের গোষ্ঠী বাজির কারণে ওই পরিচালন কমিটি ঠিকমতো বিদ্যালয়টি পরিচালনার ক্ষেত্রে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না বলে অভিযোগ। নানাবিধ সমস্যার সমাধান করে বিদ্যালয়টিতে সুষ্ঠু পঠন পাঠানোর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে শাসক দলের স্থানীয় নেতৃত্ব ও প্রশাসন কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না বলে অভিযোগ। যে কারণে এলাকার অভিভাবকদের বাড়ির কাছের বিদ্যালয় ফেলে প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত চলাকাহাম উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে ছেলেমেয়েদের ভর্তি করাতে হচ্ছে।

