Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্যদিন দুপুরে সিপিআইএম কার্যালয় ভাঙচুর!  বিজেপি আগামী দিন পালানোর রাস্তা পাবে না...

দিন দুপুরে সিপিআইএম কার্যালয় ভাঙচুর!  বিজেপি আগামী দিন পালানোর রাস্তা পাবে না : জিতেন

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২ সেপ্টেম্বর : মঙ্গলবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী সমাবেশ আগে রাজধানীর নতুন নগর এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালায় দুষ্কৃতিকারীরা। কর্মসূচি শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে যখন সভার জন্য প্রস্তুতি চলছিল তখন ৪ বড়জলা মন্ডলের কিছু যুবক অতর্কিতভাবে সিপিআইএম পার্টি অফিসে হামলা চালায়। মারধর করা হয় দুজন মাইক ম্যানকে। তারা গুরুতর আহত হয় দুষ্কৃতিকারীদের অতর্কিত হামলায়। পাশাপাশি ভাঙচুর চালায় দলীয় কার্যালয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম। পরবর্তী সময় প্রতিরোধ করলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর খবর পেয়ে ছুটে আসছে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ সহ কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী।

 আহত দুই মাইক ম্যানকে নিয়ে যাওয়া হয় জিবি হাসপাতালে। তারপর নির্ধারিত সময়ের ত্রিশ মিনিট পর স্মার্ট মিটার, বিদ্যুৎ ও জলের মাশুল বৃদ্ধি সহ জনগণের বিভিন্ন জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে সিপিআইএম সদর মহকুমা কমিটির পক্ষ থেকে শুরু হয় বিক্ষোভ সভা। বিক্ষোভ সভায় সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তিনি বললেন, বিরোধী দলের কর্মসূচি বানচাল করার জন্য একদল যুবককে লেলিয়ে দিয়ে শাসক দল সিপিআইএম দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করেছে। কিন্তু আজকের জনসভা স্থল থেকে মাত্র তিন কিলোমিটারের মধ্যে রাজভবন, মহাকরণ, বিধানসভা এবং রাজ্যের অত্যাধুনিক ও সর্বোচ্চ কর্মীর এন.সি.সি থানা রয়েছে। সেই জায়গায় দিন দুপুরে এমন আক্রমণ সংঘটিত করেছে শাসকদলের দুর্বৃত্তরা।

যারা অন্যায় ভাবে এই ঘটনা সংঘটিত করেছে তাদের নিন্দা জানায় সিপিআইএম। বিরোধী দলনেতা বলেন, বিরোধী দল মানে রাজ্যের উন্নয়নে বাধা দেওয়া, শাসক দলের কাজে বাধা দেওয়া কর্তব্য নয়। মাক্সবাদি কমিউনিস্ট পার্টি সরকারে থাকা অবস্থায় যেভাবে রাজ্যের উন্নয়নের চেষ্টা করেছে, বর্তমানে বিরোধী দলে থেকে সরকারের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করে সুপরামর্শ দিয়ে রাজ্যের উন্নয়নে চেষ্টা করছে। এটাই প্রধান বিরোধী দলের পবিত্র কর্তব্য বলে মনে করে মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টি। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আজকে কর্মসূচি সামগ্রিকভাবে এরই একটা অঙ্গ হিসেবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরো বেশি শক্তিশালী করে। তিনি আরো বলেন বর্তমান সরকার গত সাড়ে সাত বছরের এক কিলোওয়াট বিদ্যুৎ নতুন করে উৎপাদন করেনি। অথচ স্মার্ট মিটার এবং বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধি করে জনগণের উপর বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো গত সাড়ে সাত বছরে বর্তমান বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার ত্রিপুরায পাঁচবার বিদ্যুৎ বৃদ্ধি করেছে। আর রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী দাবি করছেন অন্তর্জাতিক স্তরে নাকি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই গ্যাস ত্রিপুরা রাজ্যে কোন জাহাজে আসে? যে রতন বাবু আপনি ত্রিপুরা রাজ্যের বিদ্যুৎ মাশুল, সিএনজি এবং পিএনজি -র মূল্য বৃদ্ধি করেছেন? আর এই অপরাধের বিরুদ্ধে যখন বিরোধী রাজনৈতিক দল আজকে এই কর্মসূচির ডাক এলাকায় দিয়েছিলেন তখন আক্রমণ সংঘটিত করল তারা। কিন্তু আজকের এই কর্মসূচির অনেক যুক্তি আছে। কিন্তু কোথাও নরেন্দ্র মোদি তুমি গদি ছাড়ো, ডাক্তার মানিক সাহা তুমি গদি ছাড়ো স্লোগান দেওয়া হয়নি বলে কটাক্ষ করলেন বিরোধী দলনেতা। তিনি আরো বলেন, বিজেপি রাজ্যের বিরোধীদের গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর প্রতিদিন আক্রমণ করে চলেছে। মানুষের দৃষ্টি এবং চেতনাকে অন্যদিকে ধাবিত করতে এগুলি করছে। কারণ বিজেপির পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে।

 এ সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারের প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেগুলি একটিও কার্যকর করতে পারেনি। শুধু তাই নয়, এখন এগুলি দ্বিতীয়বার উচ্চারণ করছে না। এমনকি দলের বাইক বাহিনীকে কাজে লাগাতে পারছে না। বিজেপির এক মন্ত্রী ২০১৮ সালে যখন বিধায়ক হয়েছে তখনও অন্ত্যোদয় পরিবারের ছিলেন, এই মন্ত্রীর ভাই এখন ত্রিপুরার সর্বোচ্চ করদাতা। ধর্মনগরের চার কোটি টাকা দিয়ে দোকান ক্রয় করেছে। আর এগুলি আড়াল করতে তারা মানুষের অধিকারের উপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই আন্দোলন ত্রিপুরা রাজ্যের উন্নয়ন বিরোধী, দুর্নীতিবাজ এবং ত্রিপুরার শত্রুর বিরুদ্ধে। তারা এখন যাই করুক না কেন আগামী দিন খড়কুটের মতো ভেসে যাবে। পালানোর রাস্তা পাবে না বলে দাবি করেন বিরোধী দলনেতা। আয়োজিত কর্মসূচিতে এলাকার বিধায়ক সুদীপ সরকার, রতন দাস, সিপিআইএম নেতা অমল চক্রবর্তী সহ অন্যান্য নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য