স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৩০ আগস্ট : বিয়ের সময় স্বর্ণের রিং না দেওয়ায় শ্বশুরবাড়ি লোকজনেরা হত্যা করল তরুণী গৃহবধূকে। জিবি হাসপাতালের মর্গে দাঁড়িয়ে এই অভিযোগটি তুলেছেন তরুণী গৃহবধূর পিতা। মৃতার নাম পূজা দেবনাথ। বয়স ১৯ বছর। ঘটনাটি ঘটে বিলোনিয়া মহকুমার ডিমাতলি এলাকায়। মৃতার স্বামীর নাম রাকেশ দেবনাথ। মৃতার বাবার অভিযোগ তার মেয়ের শরীরে শ্বশুর বাড়ির লোকজন আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। মেয়ের বিয়ের সময় তিনি মেয়ের জামাইকে স্বর্ণের রিং দিতে পারেন নি।
তাই প্রায় সময় তার মেয়েকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন নির্যাতন করতো। দুই বার তার মেয়ে বাপের বাড়িতে চলে গিয়েছিল। তারপর তিনি পুনঃরায় মেয়েকে স্বামীর বাড়িতে দিয়ে যান। এরই মধ্যে শ্বশুর বাড়ির লোকজন তার মেয়ের শরীরে আগুন লাগিয়ে ঘর থেকে বের করে দেয়। প্রতিবেশীর কাছ থেকে রাতের বেলায় ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ছুটে যান রাধানগর হাসপাতালে। সেখান থেকে ওনার মেয়েকে রেফার করে দেওয়া হয় বিলোনিয়া মহকুমা হাসপাতালে। সেখান থেকে তার মেয়েকে রেফার করা হয় শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে। শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতাল থেকে তার মেয়েকে রেফার করে দেওয়া হয় জিবি হাসপাতালে। জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরো জানিয়েছেন, জামাতাও জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মেয়ের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন সে তার স্ত্রীকে আগুন লাগিয়ে পরবর্তী সময় বাঁচাতে আসে। তখন নিজেও অগ্নিদগ্ধ হয়। শনিবার ময়না তদন্তের পর পূজা দেবনাথের মৃতদেহ পরিবারের লোকজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কন্যা হারা পিতা দাবি জানান ওনার মেয়ের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী তাদের যেন কঠোর শাস্তি হয়। শনিবার দুপুরে মৃতদেহ ময়না তদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কান্নায় ভেঙে পড়ে গৃহবধূর বাপের বাড়ির লোকজন।

