স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৮ আগস্ট :ত্রিপুরায় স্মার্ট মিটার বন্ধ করা এবং বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে নেওয়া অন্যান্য মাশুল প্রত্যাহার করা, রেগার কাজ বছরে ২০০ দিন করা এবং রেগার মজুরি বৃদ্ধি করা, বেকারদের যোগ্যতা অনুসারে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, কৃষকদের কম দামে সরকারি ভাবে সঠিক সময়ে সার এবং বীজ প্রদান করা, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও রান্নার গ্যাসের মূল্য হ্রাস করা সহ ১২ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কুলাই কংগ্রেস ভবনের সন্মুখে আমবাসা ব্লক কংগ্রেসের উদ্যোগে সংঘটিত হয় তিন ঘন্টার গণ অবস্থান।
বেলা ১১ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত চলে গণবস্থান। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা। অন্যান্য নেতৃত্বদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধলাই জেলা কংগ্রেস সভাপতি নিধু মারাগ, আমবাসা ব্লক কংগ্রেস সভাপতি রূপক ধর পুর কায়স্ত, পিসিসি সদস্য মানিক দেব সহ অন্যান্য। এই কর্মসূচিতে কংগ্রেস কর্মীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা বারো দফা দাবি তুলে ধরেন। বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধি করে সরকার স্মার্ট মিটার চালু করার চেষ্টা করছে। এর বিরুদ্ধে মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছে। তাই কংগ্রেস গণ আন্দোলন জারি রেখেছে। সরকার কর বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষের উপর বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সারা রাজ্য জুড়ে আন্দোলন কর্মসূচি সংঘটিত করছে জাতীয় কংগ্রেস। তিনি আরো বলেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান সরকারে মুখাপেক্ষী হয়ে ছিল, তারা এখন সরকার থেকে মুখ ঘুরাতে শুরু করেছে।
তারা বুঝতে পারছে এ সরকার উন্নয়ন বিমুখ। তাই প্রতিবাদে জনগণ রাস্তায় নামছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, প্রতিশ্রুতি পূরণ করে নি সরকার। কৃষকদের আয় দ্বিগুণ হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারে এসেছিল তারা। কিন্তু সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে কৃষকরা তাদের উৎপাদনের খরচ মেটাতে পারছে না। অথচ যে সমস্ত কৃষিজ সামগ্রী তাদের আগে সরকার থেকে প্রদান করা হতো, সেগুলি থেকে এখন কৃষকদের বঞ্চনা করা হচ্ছে। অপরদিকে আইনশৃঙ্খলা চরম অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্বদলীয় গোষ্ঠী কোন্দল লক্ষ করা যাচ্ছে। এ সরকারের আরক্ষা প্রশাসন সঠিক ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তিনি আরো জানান দাবি গুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কংগ্রেস ময়দানে থাকবে।

