Thursday, February 5, 2026
বাড়িরাজ্যনয় বছর পর আগরতলা শহরের বুকে ফ্লপ সভা করে ইতিহাস পরিবর্তন করতে...

নয় বছর পর আগরতলা শহরের বুকে ফ্লপ সভা করে ইতিহাস পরিবর্তন করতে চাইলো আইপিএফটি, দোষ চাপলেন বামফ্রন্ট সরকারের ক্যাডারদের উপর

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৩ আগস্ট :দীর্ঘ নয় বছর পর আগরতলা শহরে আবারও শক্তি প্রদর্শন করার সুযোগ পেল আইপিএফটি। কিন্তু গনা কয়েক শতাধিক কর্মী নিয়েই ঘটা করে দাবি দিবস উদযাপন করে আইপিএফটি। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ২৩ শে আগস্ট শনিবার রাজধানীর মরা চৌমুহনি এলাকায় এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন পৃথক রাজ্য গঠনের কেন্দ্রীয় টিমের সাধারণ সম্পাদক এস সানিয়াল, আইপিএফটি -র সভাপতি প্রেম কুমার রিয়াং, আইপিএফটি -র সাধারণ সম্পাদক তথা মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, সংগঠনের নেতা স্বপন দেববর্মা সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। এদিন সমাবেশ শুরু করার আগে দলের প্রতিষ্ঠাতা এন সি দেববর্মাকে স্মরণ করেন দলীয় নেতৃত্ব ও কর্মী সমর্থক। প্রাক্তন মন্ত্রী তথা দলের প্রতিষ্ঠাতা এনসি দেববর্মার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান

 সভাতে এদিন পৃথক রাজ্যের দাবি নিয়ে সোচ্চার হয় দলের নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এস সানিয়াল অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গানায় যদি পৃথক রাজ্যের দাবি পূরণ হয়ে থাকে, তাহলে কেন ত্রিপুরা রাজ্যে এই দাবি পূরণ হবে না। তিনি আরো বলেন, ত্রিপুরা রাজ্য আয়তনে ছোট কিংবা বড় নিয়ে কোন বিষয় নয়। জনজাতিদের অধিকার রয়েছে রাজ্য নিজের মতো করে পরিচালনা করার। তিনি আরো বলেন, জনজাতির ব্যাথায় কেউ বুঝতে চাইছে না। তিপরা মথা আছে কিনা প্রশ্ন তোলে তিনি বলেন সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাহলেই এই দাবি পূরণ হবে। আয়োজিত সভায় ইতিহাস মনে করলেন মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া।

তিনি বলেন, স্বশাসিত জেলা পরিষদকে পূর্ণ রাজ্য হিসেবে ঘোষণা করার জন্য ২০০৯ সাল থেকে আইপিএফটি ২৩ আগস্ট পূর্ণাঙ্গ রাজ্য দাবি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। কারণ ১৯৮৪ সালে ২৩ আগস্ট তিপ্রাসাদের জন্য অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে স্ব-শাসিত জেলা পরিষদ গঠন হয়েছিল। তারপর থেকে দিনটি যথাযথ মর্যাদার সাথে পালন করা হয়। কিন্তু ২০১৬ সালে আগরতলা শহরের বুকে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের ক্যাডাররা আক্রমণ অত্যাচার চালিয়ে রাজ্যের পরিবেশ অন্যভাবে পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছিল। তারপর আগরতলা শহরে বড় পরিসরে কোন কর্মসূচি সংগঠিত করেনি আইপিএফটি। ৯ বছর পর আজকে পুনরায় এই কর্মসূচি সংঘটিত করা হচ্ছে। আর বলেন, ২০১৬ সালে আইপিএফটির দাবি দুর্বল করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আজ পুনর্জীবিত হচ্ছে সংগঠনের মানুষ। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ২৩শে আগস্ট আগরতলা শহরে বুকে কি ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল সেটা সকলের জানা। শহরের মিছিলের মধ্যে কারা উত্তপ্ত হয়ে দোকানপাটে আক্রমণ সংগঠিত করেছে সেটা কেউ ভুলেনি। তারপর পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন যখন হিমসিম খায় তখন সাধারণ মানুষ পথে নামতে বাধ্য হয়। তখন ঝামেলা সাধারণ মানুষের সাথে মিছিলে উত্তেজিত হওয়া যুবকদের সংঘটিত হয়েছিল।

তারপর তৎকালীন প্রশাসন এবং তৎকালীন সরকার কাগজে-কলমে শিলমোহর দিয়ে দেয় আগরতলা শহরের বুকে তারা আর মিছিল করার অনুমোদন পাবে না। তারপর যতগুলো আন্দোলন আইপিএফটির পক্ষ থেকে সংঘটিত হয়েছে তা অধিকাংশই বড়মুড়া সহ প্রত্যন্ত এলাকায়। বড়মুড়া লাগাতার জাতীয় সড়ক অবরোধ করে কোন দৃশ্য জাতীয় স্তরের কাছে পৌঁছেছিল সেটা দেশবাসীর জানা। বর্তমানে আইপিএফটি রাজ্যে দ্বিতীয় শরিক দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এদিনের সবার উপর শহরবাসীর মধ্যে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে আগের মত শক্তি নেই আইপিএফটি -র। গোটা রাজ্য থেকে কর্মী সমর্থক আনতে চাইলেও গনা কয়েক কর্মী সমর্থকদের সমাবেশ সারতে হলো দলের। আর কয়েক মাস পর টিটিএএডিসি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের আগে আজকের সমাবেশ ছিল দলের নেতৃত্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারাও শক্তি পরিমাপ করতে চেয়েছিলেন এই সমাবেশে। অথচ সমাবেশ ফ্লপ হয়েছে জনসমাগম চোখে পড়ার মতো না হওয়ায়। এমনটাই গুঞ্জন যাত্রীবাহী গাড়ি এবং চায়ের স্টল থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য