স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ১৬ সেপ্টেম্বর ।। যুদ্ধের ময়দানে হারের বদলা ক্রিকেটের ময়দানে! শাহিদ খান আফ্রিদির মতামত এমনই। তার মতে, গত মে মাসে আকাশযুদ্ধে পাকিস্তানের কাছে হেরে পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছে ভারতীয় সরকার। তাদের নির্দেশেই ভারতীয় ক্রিকেটাররা মাঠে হাত মেলাননি বলে মনে করেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক। তার মতে, এই ঘটনায় আরও বেশি অপমানিত হয়ে ভারত।
এশিয়া কাপের ম্যাচে পাকিস্তানিদের সঙ্গে ভারতীয় দলের হাত না মেলানোর ঘটনায় যে বিতর্কের যে ঢেউ চলছে, সেখানে আফ্রিদির ঝড়ো হাওয়া বইয়ে দেওয়া একরকম অবধারিতই ছিল। পাকিস্তানের সামা টিভিতে আলোচনায় সাবেক এই অলরাউন্ডার স্রেফ ধুয়ে দিয়েছেন ভারতীয় সরকারকে। এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন করার জন্য ভারতে বেশ কিছুদিন ধরেই প্রচারণা চলছিল সামাজিক মাধ্যমে। ভারতের সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যেও কয়েকজন সোচ্চার ছিলেন এই দাবিতে। আফ্রিদির ধারণা, ম্যাচ বর্জন না করলেও সেই চাপের প্রতিফলনই পড়েছে হাত না মেলানোর সিদ্ধান্তে।
“এশিয়া কাপ শুরুর সময় সামাজিক মাধ্যম ভরপুর ছিল ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচ বর্জন করার প্রচারণায়। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলা উচিত না, এরকম আলোচনা ছিল প্রচুর। সেই চাপের কথা বিবেচনায় নিলে বিস্ময়ের খুব বেশি কিছু নেই যে বিসিসিআই ও তাদের ক্রিকেটারদের বলা হয়েছিল আমাদের দলের সঙ্গে হাত না মেলাতে।”
“আমার মতে, কোনো খেলাধুলার কোনো চেতনা বা ভদ্রলোকের আচরণ সেখানে দেখা যায়নি। বিশ্বের সামনে আরও একবার লজ্জিত হওয়া উচিত তাদের। আমার মনে হয়, আমাদের অবস্থান ছিল একদম ঠিক। আমাদের পিসিবি প্রধান সঠিক অবস্থান নিয়েছেন।”
‘আরেকবার লজ্জিত হওয়া উচিত’ বলে আফ্রিদি বুঝিয়েছেন গত মে মাসে দুই দেশের যুদ্ধের ঘটনা। গত এপ্রিলে পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়ায় ৭ মে অপারেশন সিঁদুর পরিচালনা করে পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ভারতের দাবি ছিল, তাদের এই হামলার লক্ষ্য পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করা। ১০ মে পাকিস্তান জবাব দেয় অপারশন ‘বুনিয়ান আল-মাসরুর’ দিয়ে। ভারতীয় সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় তারা। এরপরই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই পক্ষ। আফ্রিদির মতে, সেটি ছিল ভারতের পরাজয় এবং সেটির প্রতিশোধ তারা নিতে চেয়েছে ক্রিকেট মাঠে।
“ওরা আমাদের সঙ্গে একশ ম্যাচ জিতুক, সমস্যা নেই। কিন্তু গত ১০ মে আমরা যা করেছি ওদের সঙ্গে, এরপর ওরা পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছে। গোটা দুনিয়ায় অপমানিত হয়েছে এরা। এদের যে আসল চেহারা (সবাই খেছে এখন)… আমি তো অনেক আগে থেকই জানতাম, অনেক আগেই ২০১০-১১ সালেই বলেছি, আমাদের যে বিশাল হৃদয়, এটার ধারেকাছেও আসতে পারবে না ওরা।”
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি, যিনি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডেরও প্রধান, তার সঙ্গে টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচনের অনুষ্ঠানে সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ হাত মিলিয়েছেন, পাকিস্তানের অধিনায়কের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন দাবি করে আফ্রিদি ভারতীয় অধিনায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেন দ্বিচারিতার।
“এই অধিনায়কই মহসিন আলি নাকভির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন, এই অধিনায়কই সালমান আলি আগার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে (ট্রফি উন্মোচনী আয়োজনে)। কিন্তু এখন আমজনতার সামনে, দর্শকের সামনে এরকম করেছে। সামাজিক মাধ্যমের যে চাপ ছিল, সেটা সামলাতে পারেনি তাদের সরকার। এজন্যই এসব দেখতে হচ্ছে আমাদের। আমার মতে, ভারতীয় দল গোটা দুনিয়ার সামনে বিব্রতকর হয়ে উঠেছে, যেখানে উচিত ছিল দূত হয়ে ওঠার।” আফ্রিদি অবশ্য আবারও বললেন, এখানে সুরিয়াকুমার বা ভারতীয় ক্রিকেটারদের দায় খুব বেশি নেই।
“আমি সবসময়ই বলেছি, ক্রিকেটারদের হওয়া উচিত খুব ভালো দূত, জাতির জন্য বিব্রতকর যেন না হয়। এই মুহূর্তে ভারতীয় ক্রিকেটাররা… ক্রিকেটারদের দায় আমি ততটা দেব না। ওপর থেকে যে আদেশ মিলেছে, সরকারের পক্ষ থেকে, বোর্ডের তরফ থেকে, সেটিই মানতে হয়েছে ক্রিকেটারদের।”

