স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, ০৮ অক্টোবর : কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইমেলে এবার স্বদেশি ছোঁয়া। ব্যাক্তিগত ইমেল বদলে ফেললেন অমিত শাহ। আত্মনির্ভর ভারত ও স্বদেশি আন্দোলনের ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এবার নিজের ব্যক্তিগত ইমেলের জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘জোহো’র ইমেল ব্যবহার করবেন তিনি।
মার্কিন শুল্ক যুদ্ধের মাঝেই শাহের এই স্বদেশি বাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দেশীয় সংস্থা ‘জোহো’র ইমেল প্ল্যাটফর্মে নিজের ব্যক্তিগত ইমেল খুলেছেন অমিত শাহ। বুধবার ট্যুইট করে এই কথা জানিয়েছেন তিনি। পাশপাশি নিজের ইমেলের আইডি-ও এক্স হ্যান্ডেলের ওই পোস্টে শেয়ার করেছেন তিনি। এক্স হ্যান্ডেলে নিজের পোস্টে শাহ লিখেছেন, “আমি জোহো মেলে চলে এসেছি। আমার নতুন ইমেল আইডি amitshah.bjp@zohomail.in। ভবিষ্যতে যোগাযোগের জন্য, এই আইডি ব্যবহার করুন।” জোহো মেলকে জিমেল এবং মাইক্রোসফট আউটলুকের ভারতীয় প্রতিপক্ষ বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি জাতির উদ্দেশে ভাষণে আত্মনির্ভর ভারতের সংকল্পে ‘বিদেশি দ্রব্য’ বর্জনের ডাক দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি জানান, অজান্তেই আমাদের জীবনের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে বিদেশি দ্রব্য। এই ফাঁদ থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে। মেড ইন ইন্ডিয়াকে আপন করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে এখন থেকে আপনারা গর্বের সঙ্গে বলুন, আমি স্বদেশি জিনিস কিনি এবং স্বদেশি জিনিস বিক্রি করি।” এরপরেই কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জোহোতে নিজের নিজের আইডি খোলেন। এক্স হ্যান্ডেলে সেই খবর জানিয়ে তিনি লেখেন, এরপরে সব কাজের জন্য তিনি দেশীয় প্লাটফর্ম জোহো ব্যবহার করবেন।
বাণিজ্যে মার্কিন চাপ এবং ভারতের উপর ৫০ শতাংশ হেরে শুল্কের কারণে ‘আত্মনির্ভর ভারতে’র উদ্যোগ ফের একবার গতি পেয়েছে। বিদেশী প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের উপর নির্ভরতা কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে সরকার। সেই লক্ষ্যেই সাম্প্রতিক অতীতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রথম সারির বেশ কিছু নেতা জোহোর প্রচার করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরেও জোহোর ব্যবহার করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রকের সমস্ত আধিকারিক ও কর্মীদের এখন থেকে সমস্ত সরকারি নথি, স্প্রেডশিট ও প্রেজেন্টেশন তৈরির কাজে ‘জোহো অফিস সুইট’ ব্যবহার করতে হবে।
প্রসঙ্গত, জোহোর তৈরি একের পর এক অ্যাপ ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল – আরাটটাই নামের এক কলিং ও মেসেজিং অ্যাপ। মনে করা হচ্ছে, এই অ্যাপটি হোয়াটসঅ্যাপের বিকল্প হতে পারে। একইসঙ্গে জোহোর তৈরি উলা ব্রাউজারও সামনে এসেছে। এই ব্রাউজারটি আবার জনপ্রিয় গুগল ক্রোমকে টক্কর দিতে পারে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

