স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, ২৫ অগস্ট : জম্মু ও কাশ্মীরে সীমান্ত এলাকায় উড়ছে অন্তত আধ ডজন পাক ড্রোন। সোমবার সেই ড্রোনের উপস্থিতি নজরে আসতেই কড়া নজরদারি শুরু জওয়ানদের। রবিবার রাতে বালাকোট, লাঙ্গোট, গুরসাই নাল্লা ও মান্ধের সেক্টরের বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন উড়তে দেখা গিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, ভারতীয় সেনার গতিবিধি নজরদারি করার জন্যই এই ড্রোনগুলি পাঠিয়েছে পাক সেনা। কারণ, লক্ষ্য করা গিয়েছে, অনেক উঁচুতে মিনিট পাঁচেক ওড়ার পরই পাকিস্তানে ফিরে গিয়েছে সেইসব ড্রোন। সোমবার ভোরের আলো ফুটতেই এলাকাজুড়ে কড়া তল্লাশি ও নজরদারি চালান জওয়ানরা। ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্রশস্ত্র বা মাদক চোরাচালান করা হচ্ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হয় বলেই সেনাসূত্রে খবর।
গত এপ্রিলে পহেলগাঁওতে ভয়ংকর জঙ্গি হামলায় প্রাণ যায় নিরীহ পর্যটকদের। পালটা অপারেশন সিঁদুর চালায় ভারতীয় সেনা। তারপর থেকেই জম্ম-কাশ্মীরের সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি ছাইচাপা আগুনের মতো। এরই মধ্যে সীমান্তের বিভিন্ন সেক্টরে ড্রোনের উপস্থিতি উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ড্রোনের গতিবিধি দেখে অনুমান করা হচ্ছে, সেনার উপর নজরদারি চলছে। ফের অনুপ্রবেশের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না সেনাকর্তারা।
প্রসঙ্গত, সপ্তাহ খানেক আগেই কাশ্মীরের উরি সেক্টরে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে একদল জঙ্গি। যদিও জওয়ানদের তৎপরতা জঙ্গিদের সেই চেষ্টায় জল ঢেলে দেয়। দুইপক্ষের গোলাগুলিতে এক সেনা শহিদ হন। পাক সেনার বর্ডার অ্যাকশন ফোর্সের গোলাগুলির সুযোগেই ওই জঙ্গিরা অনুপ্রবেশ করছিল বলে জানা গিয়েছিল। পাশাপাশি রবিবারও গুজরাটের কচ্ছ অঞ্চলে যৌথ অভিযান চালায় বিএসএফ ও ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। ১৫ জন পাকিস্তানি জেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত হয়েছে একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকাও। প্রচুর পরিমাণে রসদ ও জ্বালানিরও সন্ধান মিলেছে ওই নৌকা থেকে। যে কারণে সেনাকর্তারা মনে করছেন অনেকদিন ধরেই নৌকাটি ভারতীয় জলসীমায় ঘোরাঘুরি করছিল। এবার ড্রোনের দেখা মিলল জম্মু-কাশ্মীরের সীমান্ত এলাকায়।

