Sunday, June 23, 2024
বাড়িবিশ্ব সংবাদগাজা যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলি প্রস্তাব তুলে ধরলেন বাইডেন

গাজা যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলি প্রস্তাব তুলে ধরলেন বাইডেন

স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, ১ জুন: গাজা যুদ্ধ বন্ধে হামাসের প্রতি ইসরায়েলের নতুন প্রস্তাব মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, “এই যুদ্ধ শেষ করার এখনই সময়।”তিন পর্বের এই প্রস্তাবের শুরুতে ছয় সপ্তাহের জন্য যুদ্ধ বিরতির কথা বলা হয়েছে, এ সময় গাজার জনবহুল এলাকা থেকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) প্রত্যাহার করা হবে।প্রস্তাবে মানবিক সহায়তার কথাও বলা হয়েছে, যার মধ্যে ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে কিছু জিম্মি বিনিমরে বিষয়টিও রয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, চুক্তি হলে শেষ পর্যন্ত তা স্থায়ীভাবে ‘যুদ্ধবিগ্রহ বন্ধ’ করা এবং গাজার বড় পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখবে।এই প্রস্তাবকে ‘ইতিবাচকভাবে’ দেখার কথা জানিয়েছে হামাস।শুক্রবার হোয়াইট হাউজে বাইডেন বলেন, প্রস্তাবের প্রথম পর্বে ‘পুরো ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি’ থাকছে, জনবহুল এলাকা থেকে আইডিএফ সেনা প্রত্যাহার করা হবে এবং ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে জিম্মি বিনিময় হবে।তিনি বলেন, “এটা সত্যিকার অর্থে চূড়ান্ত মুহূর্ত। হামাস বলছে, তারা যুদ্ধবিরতি চায়। তারা আসলেই তা চায় কি না, সেটা প্রমাণ করার জন্য এই প্রস্তাব একটা সুযোগ।”বাইডেন বলেন, এই যুদ্ধবিরতি বিপর্যস্ত অঞ্চলটিতে আরও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ করে দেবে।

“গাজায় প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক সহায়তা যাবে।”যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের দ্বিতীয় পর্বে হামাসের হাতে আটক জীতিব সকল জিম্মি ও পুরুষ সেনাদের ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর এর মধ্যে দিয়ে যুদ্ধবিরতি ‘শত্রুতার স্থায়ী অবসান’ ঘটাতে সক্ষম হবে।এই প্রস্তাব মেনে নিতে হামাসের প্রতি যারা আহ্বান জানিয়েছেন তাদের একজন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এক্স পোস্টে লিখেছেন, “এই প্রস্তাব অবশ্যই মেনে নিতে হবে যাতে আমরা সংঘাত বন্ধ দেখতে পারি।“আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছি সংঘাত বন্ধের মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি ফিরতে পারে, যদি সবাই আমরা সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকি। আসুন, এই মুহূর্তকে কাজে লাগাই এবং এই সংঘাতের অবসান ঘটাই।”

সংঘাত বন্ধের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও। এক্স পোস্টে তিনি বলেছেন, গাজার চরম দুর্দশা ও ধ্বংসযজ্ঞ দেখেছে বিশ্ব এবং এখনই তা থামার সময়।“যুদ্ধবিরতি, সব জিম্মির মুক্তি, মানবিক সহায়তা প্রবেশের প্রতিশ্রুতি এবং শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে একটি টেকসই শান্তির জন্য সবপক্ষকে উৎসাহিত করা এবং উদ্যোগ গ্রহণের জন্য (প্রেসিডেন্ট) বাইডেনকে আমি স্বাগত জানাই।”বাইডেন অবশ্য তার বক্তব্যে স্বীকার করেছেন, প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের জন্য সমঝোতা করানোটা সহজ হবে না।কিছুদিন আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ বন্ধের অংশ হিসেবে যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার পক্ষে নন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে হামাসকে আলোচনার টেবিলে ফেরানোর চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ স্থায়ী যুদ্ধবিরতি হামাসের চাওয়া দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম।প্রস্তাবের তৃতীয় ধাপে মৃত কোনো ইসরায়েলি জিম্মি থাকলে তার দেহাবশেষ ফেরত পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে বাড়িঘর, স্কুল ও হাসপাতাল পুনর্নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগীদের ‘বড় পুনর্গঠন পরিকল্পনা’র কথা বলা হয়েছে।বাইডেন মনে করেন, ইসরায়েল সরকারের কর্মকর্তাসহ কিছু ইসরায়েলি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করতে পারেন।“আমি ইসরায়েলি নেতৃত্বকে এই প্রস্তাবের পেছনে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি; যত (রাজনৈতিক) চাপই আসুক না কেন।”ইসরায়েলি জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, “আমরা এই মুহূর্তটিকে হারাতে পারি না।”বাইডেন বলেছেন, হামাস এখন এতোই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে ৭ অক্টোবরের মতো হামলা তারা আর করতে পারবে না।

এই পরিস্থিতিকে যুদ্ধ শেষ হিসেবে ইসরায়েলের কাছে তুলে ধরতে চাইছে ওয়াশিংটন।এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেছেন, সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনা এবং হামাসের সামরিক ও শাসন ক্ষমতা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হবে না। এই নীতি নতুন প্রস্তাবে সমুন্নত থাকবে বলে তিনি মনে করেন।স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, গাজা পুনর্গঠন এবং বন্দি বিনিময়ের জন্য এই প্রস্তাবকে ‘ইতিবাচকভাবে’ দেখছে হামাসও।সংগঠনটি বলেছে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে কেন্দ্র করে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ যেকোনো চুক্তি করতে তারা প্রস্তুত, তবে সেই বিষয়ে ইসরায়েলের ‘সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি’ থাকতে হবে।

ইসরায়েলের নতুন প্রস্তাব দেখে সমঝোতার আলোচনায় সম্পৃক্ত ফিলিস্তিনি এক কর্মকর্তা বলেছেন, যুদ্ধ শেষ হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি নতুন প্রস্তাবে। তাছাড়া গাজা থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করবে না আইডিএফ।নতুন প্রস্তাবটি মধ্যস্থতাকারী কাতারের মাধ্যমে হামাসের কাছে পাঠানো হয়েছে।গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েল ভূখণ্ডে হামাসের হামলায় প্রায় ১২০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৫২ জনকে জিম্মি করা হয়েছে বলে দাবি করে আসছে ইহুদী রাষ্ট্রটি।আর হামাস নিয়ন্ত্রিত ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের অভিযানে এ পর্যন্ত ৩৬ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ গেছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য