স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২২ জুলাই :আন্দোলন ছাড়া তথাকথিত জনগনের সরকার কর্ণপাত করে না, এমনটাই ধারণা নিয়ে প্রতিদিন মৌলিক সমস্যা নিয়ে দিকে দিকে আন্দোলনে নামছে জনগণ। এবার রাস্তা সংস্কারের দাবিতে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করল গ্রামবাসীরা। ঘটনা কৈলাসহরের পানাই বাজার এলাকায়। জানা যায়, কৈলাসহরের মাইলং এডিসি ভিলেজের চার নং ওয়ার্ড এলাকায় অবস্থিত পানাই বাজার এলাকাটি।
পানাই বাজার এলাকায় প্রায় একশো জনজাতিদের বসবাস রয়েছে। অবরোধকারী জনজাতি গ্রামবাসীরা জানায় যে, পানাই বাজার এলাকায় একটি মাত্র রাস্তা রয়েছে। এই একটি মাত্র রাস্তা দিয়েই গোটা গ্রামের মানুষ চলাফেরা করেন। পানাই বাজার থেকে শান্তিপুর অব্দি সাত কিলোমিটার রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে রয়েছে। অথচ রাস্তাটি পিচ রাস্তা হলেও সংস্কারের অভাবে রাস্তায় বড় বড় গর্ত হয়ে রয়েছে।
এর ফলে গ্রামে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা ছোট বড় কোনো গাড়ি আসা যাওয়া করতে পারছে না। গ্রামের ছাত্র ছাত্রীরা স্কুল কলেজে যেতে পারছে না। বিগত সাত আট মাস পূর্বে পানাই বাজার থেকে শান্তিপুর অব্দি সাত কিলোমিটার রাস্তাটির সংস্কারের অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হলেও বাকী কাজটুকু করা হচ্ছে না বলেও জানান অবরোধ কারীরা। গ্রামবাসীরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তা সংস্কারের দাবীতে পানাই বাজার এলাকায় কৈলাসহর-আগরতলা যাবার ২০৮ বিকল্প জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে মঙ্গলবার সকাল দশটা থেকে। অবরোধের খবর পেয়ে কৈলাসহর থানার বিশাল পুলিশ এবং টিএসআর বাহিনী অবরোধস্থলে হাজির হয়ে অবরোধ কারীদের সাথে অনেক অনুরোধ করার পরও অবরোধ কারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নি। রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু না হলে অবরোধকারীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। প্রায় দুই ঘন্টা অবরোধ চলার পর দুপুর বারোটা নাগাদ স্থানীয় পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকরা অবরোধস্থলে উপস্থিত হয়ে অবরোধ কারীদের সাথে দীর্ঘক্ষন আলোচনা করে আধিকারিকরা জানায় যে, বাইশ জুলাই মঙ্গলবার বিকেল থেকেই পানাই বাজার গ্রামের রাস্তায় যেসব গর্ত রয়েছে সেইসব গর্তে ইট এবং রাবিশ ফেলে আপাতত চলাচলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে দপ্তরের পক্ষ থেকে রাস্তার স্থায়ী সংস্কারের কাজ শুরু হবে। দপ্তরের আধিকারিকদের কাছ থেকে এই আশ্বাস পাবার পর অবরোধ কারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। পানাই বাজার এলাকায় জাতীয় সড়ক অবরোধে গ্রামের পুরুষদের পাশাপাশি গ্রামের মহিলা এবং ছাত্র ছাত্রীরাও হাজির ছিলেন।

