স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ২২ সেপ্টেম্বর ।।জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক পৌঁছেছেন সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। ১৯৬৭ সালের পর এবারই প্রথম সিরিয়ার কোনো প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন, সোমবার আরব দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
৫৮ বছর আগে সর্বশেষ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট নুরেদ্দিন আল-আতাশি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন। সিরিয়ার এখনকার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট শারা একসময় ওই অঞ্চলের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদার নেতা ছিলেন, তাকে হত্যায় যুক্তরাষ্ট্র এক কোটি ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল ।
বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে গত বছর তিনি দামেস্কের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ নেন। এ বছরের মে-তে সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ তাকে বড় ধরনের কূটনৈতিক জয় এনে দেয়। ওই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র পরে সিরিয়ার ওপর থেকে বেশিরভাগ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। তুলে নেয় শারাকে হত্যার জন্য ঘোষিত পুরস্কারও। দেশকে ‘ঐক্যবদ্ধ ও স্থিতিশীল’ করতে শারার প্রচেষ্টার প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থনের সুরও এখন নিয়মিতই শোনা যাচ্ছে।
সিরিয়ার এ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের এবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা। মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদের এবারের ৮০তম অধিবেশনের পর্দা উঠছে। এ অধিবেশনের ফাঁকেই সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে ‘নিরাপত্তা চুক্তি’ হতে পারে বলে অগাস্টে একাধিক আঞ্চলিক গণমাধ্যম আভাস দিয়েছিল। প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধ শেষে গত ডিসেম্বরে কট্টর-মুসলিম গোষ্ঠীগুলোর জোট বাশার আল-আসাদকে উৎখাত করার পর শারা সিরিয়ার ক্ষমতায় বসেন। সিরিয়ার এ নতুন শাসকের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর পাশাপাশি সৌদি আরব ও তুরস্কসহ সুন্নি নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রবল সমর্থন দেখা যাচ্ছে। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি এ বছরের এপ্রিলে জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছিলেন। তিনি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে সিরিয়ার নতুন পতাকাও উত্তোলন করেছেন।

