স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ১৩ সেপ্টেম্বর।। ইসরায়েলের পাশাপাশি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ‘বাস্তব, সময়সীমা নির্ধারিত ও অপরিবর্তনীয় পদক্ষেপ’ নেওয়ার কথা বলা একটি ঘোষণায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অভাবনীয় সমর্থন মিলেছে। বিশ্বনেতাদের বৈঠকের আগে শুক্রবার সাধারণ পরিষদে ওঠা এই ঘোষণার পক্ষে সিংহভাগ দেশই অবস্থান নেয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। জুলাইয়ে সৌদি আরব ও ফ্রান্স ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষায় দশকের পর দশক ধরে চলা সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। ওই সম্মেলনের ফলই হচ্ছে ৭ পৃষ্ঠার এ ঘোষণা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ওই আয়োজন বয়কট করে। শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ঘোষণাটিকে সমর্থন জানিয়ে আনা একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছে ১৪২টি, বিপক্ষে মাত্র ১০টি। ১২টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক শীর্ষ অধিবেশনের সাইডলাইনে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে বিশ্বনেতাদের বসার কথা; ব্রিটেন, ফ্রান্সসহ একাধিক দেশ সেসময় ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তার আগে আগে শুক্রবারের এ ভোট হল।
সাধারণ পরিষদে অনুমোদিত এই ঘোষণায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি সশস্ত্রগোষ্ঠী হামাসের হামলার নিন্দাও জানানো হয়েছে। এতে একইসঙ্গে গাজায় বেসামরিক মানুষ ও বেসামরিক স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলা, ভূখণ্ডটিকে অবরুদ্ধ এবং সেখানকার মানুষদের অনাহারে রাখারও নিন্দা জানানো হয়েছে। “এসবের কারণে (গাজায়) একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ও নিরাপত্তা সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে,” বলা হয়েছে ঘোষণায়। সাধারণ পরিষদের এ প্রস্তাব হামাসের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ফরাসী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো। “প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ একটি বার্তা গ্রহণ করেছে যেখানে হামাসকে তার অপরাধের জন্য নিন্দা এবং তাদেরকে আত্মসমর্পণ ও অস্ত্রসমর্পণে আহ্বান জানানো হয়েছে,” এক্সে দেওয়া পোস্টে এমনটাই বলেছেন তিনি। শুক্রবার তোলা এই প্রস্তাবে সব উপসাগরীয় আরব দেশ সমর্থন জানিয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে, সঙ্গে পেয়েছে আর্জেন্টিনা, হাঙ্গেরি, মাইক্রোনেসিয়া, নাউরু, পালাউ, পাপুয়া নিউ গিনি, প্যারাগুয়ে ও টোঙ্গাকে।
প্রস্তাবে অনুমোদিত ঘোষণায় বলা হয়েছে, গাজায় যুদ্ধ ‘এখনই বন্ধ হওয়া উচিত’। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিতে নিরাপত্তা পরিষদ অনুমোদিত একটি অস্থায়ী আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা মিশন পাঠানোর পদক্ষেপেও ঘোষণায় সমর্থন জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবারের ভোটকে ‘আরেকটি ভুল পদক্ষেপ ও মোটেও সময় উপযোগী নয় এমন তামাশা’ আখ্যা দিয়েছে, যা সংঘাত থামানোর চেষ্টায় চলা গুরুতর কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। “ভুল বোঝার অবকাশ নেই, এই প্রস্তাবনা মূলত হামাসের জন্য উপহার। শান্তি প্রচারের পরিবর্তে, এই সম্মেলন ইতিমধ্যেই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করেছে, হামাসকে সাহস যুগিয়েছে এবং স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে,” জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এমনটাই বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক মরগান অরটাগাস। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার জন্য হামাসকে নাম ধরে নিন্দা না জানানোয় দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের সমালোচনা করা ইসরায়েল এই ঘোষণাকে ‘একতরফা’ এবং ভোটকে ‘নাটক’ অভিহিত করেছে। “এতে একমাত্র লাভবান হামাস। যখন সন্ত্রাসীরা উল্লাস করে, তখন আপনি শান্তির পথে অগ্রসর হচ্ছেন না, আপনি অগ্রসর হচ্ছেন সন্ত্রাসের পথে,” বলেছেন জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন।

