Wednesday, February 4, 2026
বাড়িবিশ্ব সংবাদকারাগারে এক বছরের সাজা খাটতেই হবে থাকসিনকে, আদেশ থাই আদালতের

কারাগারে এক বছরের সাজা খাটতেই হবে থাকসিনকে, আদেশ থাই আদালতের

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ৯ সেপ্টেম্বর।। সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে কারাগারে এক বছরের সাজা খাটার আদেশ দিয়েছে থাইল্যান্ডের শীর্ষ আদালত। তাদের এ রায়কে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আদালত বলেছেন, থাকসিন এর আগে তার সাজার বেশিরভাগ সময় বেআইনিভাবে হাসপাতালে কাটিয়েছেন, ওই সময়টুকু তাকে অবশ্যই কারাগারে কাটাতে হবে। সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর আগের এক দুর্নীতির অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মামলায় মঙ্গলবার থাই শীর্ষ আদালত এ রায় দিল, জানিয়েছে বিবিসি। ২০০১ সালে থাকসিন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই তার পরিবার দেশটির রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। থাকসিনের বোন ও মেয়েও পরে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হন।

কম্বোডিয়ার নেতা হুন সেনের সঙ্গে এক ফোনালাপে নৈতিকতার মান লঙ্ঘনের দায়ে গত মাসে সাংবিধানিক আদালত থাকসিনের মেয়ে পায়েতংতার্নকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেয়। ওই ফোনালাপ ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর থেকেই পায়েতংতার্নের ভাগ্য সুতায় ঝুলছিল। মঙ্গলবার রায় ঘোষণার সময় আদালতে ৭৬ বছর বয়সী বাবার সঙ্গেই পায়েতংতার্নকে দেখা গেছে। রায় ঘোষণার পর থাকসিনকন্যা সাংবাদিকদের বলেন, তিনি তারা বাবাকে নিয়ে ‘চিন্তিত’, তবে থাকসিন ও তার পরিবারের সবাই ‘মানসিকভাবে শক্ত রয়েছেন’। বিরোধী দল হিসেবে তাদের পিউ থাই পার্টিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন পায়েতংতার্ন।

রায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে থাকসিন বলেছেন, শারীরিকভাবে তিনি বন্দি থাকলেও তার চিন্তায় সবসময়ই থাইল্যান্ড ও এর জনগণের কল্যাণের বিষয়টি থাকবে। সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী ২০০৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর থেকে অনেক বছর তিনি স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন, তার মধ্যে বেশিরভাগ সময়ই তিনি দুবাইয়ে কাটিয়েছেন।

২০২৩ সালে থাইল্যান্ডে ফেরার পর দ্রুত তার বিচারকাজ শুরু হয়। বিচারে ক্ষমতায় থাকাকালে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে তাকে ৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এরপর থাকসিন রাজকীয় ক্ষমার আবেদন করলে থাই রাজা তার সাজা কমিয়ে এক বছরে নামিয়ে আনেন। কিন্তু ওই এক বছরের সাজার মাত্র কয়েক ঘণ্টা থাকসিন কারাগারে কাটান, হার্টের সমস্যা সামনে এনে তিনি পরে থাইল্যান্ডের পুলিশ জেনারেল হাসপাতালের বিলাসবহুল ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত হন। ওই ওয়ার্ডেই তিনি ছয় মাস ছিলেন, পরে পেরোলে মুক্তি পেয়ে চলে যান ব্যাংককে নিজের বাড়িতে। কারাগার থেকে হাসপাতালে যাওয়ার সময় থাকসিন তার পরিস্থিতি যে অতটা গুরুতর ছিল না তা জানতেন, অথবা সেটা বোঝার সক্ষমতা তার ছিল, মঙ্গলবার বিবৃতিতে বলেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক।

তার শারীরিক সমস্যা থাকলেও হাসপাতালে না থেকেই তার চিকিৎসা করা যেত, বলেছেন তিনি। মঙ্গলবার যে মামলায় থাকসিনের বিরুদ্ধে রায় এসেছে, সে মামলাটি পরিচিতি পেয়েছে ‘চৌদ্দ তলা মামলা’ হিসেবে। হাসপাতালে এই চৌদ্দ তলাতেই কারাদণ্ডের ছয় মাস কাটিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। অনেকে বলছেন, থাইল্যান্ডে ধনী ও প্রভাবশালীরা যে সর্বত্রই বেশি সুবিধা পায়, থাকসিনের এ মামলাই তার উদাহরণ। মঙ্গলবারের রায়ের আগে থাকসিন কোথায়, তিনি আদৌ উপস্থিত হবেন কিনা তা নিয়েও ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলেছে।

দিনকয়েক আগে তিনি ব্যক্তিগত বিমানে থাইল্যান্ড থেকে দুবাই চলে যান। পরে তিনি জানান, চিকিৎসার জন্যই তাকে দুবাই যেতে হয়েছে। রায় ঘোষণার দিন উপস্থিত থাকতে আগ্রহের কথাও তিনি সোশাল মিডিয়ায় জানিয়েছিলেন। পরে মঙ্গলবার সকালে ব্যাংককের আদালতে স্যুট ও হলুদ রংয়ের টাই পরে, মেয়ে পায়েতংতার্নকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী, হাসিমুখে গণমাধ্যম ও সমর্থকদের একাংশকে শুভেচ্ছা জানান।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য