স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৭ আগস্ট : বর্তমান সরকারের গর্বের স্বাস্থ্য পরিষেবা যেন আবারো কলঙ্কিত। সোনামুড়া সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জরুরী বিভাগ সহ গোটা হাসপাতালে দীর্ঘ দু’ঘণ্টা ধরে নেই চিকিৎসক। গোটা মহাকুমা থেকে বহু রোগী এসে চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে কেউ অপেক্ষা করলেন, আবার কেউ বাড়ি ফিরে গেলেন এবং যারা গুরুতর অসুস্থ ছিলেন তাদের নিয়ে আসতে হয় মেরাঘর হাসপাতালে। এই দৃশ্য লক্ষ্য করা গেল রবিবার সকালে সোনামুড়া সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। রোগীর পরিবার-পরিজনেরা জানান গুরুতর অসুস্থ হয়ে তারা হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করছেন।
অথচ চিকিৎসক কখন আসবে সেটা বলতে পারছেন না। রোগীদের ভিড়ের মধ্যে ছিল একাংশ শয্যাশায়ী রোগী। তাদের স্ট্যাচার এর মধ্যে শুয়ে রাখা হয়েছিল। দিশেহারা হয়ে দীর্ঘ দু’ঘণ্টা পর হাসপাতাল ছাড়তে বাধ্য হয় সেসব রোগীর পরিবার। রোগীকে নিয়ে আসা হয় মেলাঘর হাসপাতালে। এক রোগীর পরিবার সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার সামনে বলে ওঠেন তারা যাবে কোথায়? একজন চিকিৎসক ছুটিতে গেছেন বলে বাকি দুজন চিকিৎসক হাসপাতাল থেকে পালিয়ে কিভাবে থাকেন? সাধারণ দায়িত্ববোধটুকু হারিয়ে ফেলেছেন একাংশ চিকিৎসক। যার নজির গড়েছেন এই হাসপাতাল। একটা সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার মতো হয়ে ওঠে। তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে সোনামুড়া মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক ডক্টর রাজেশ দাসকে ছুটে আসেন সোনামুড়া সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। তিনি নিজেই রোগী দেখা শুরু করেন। সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরায় তিনি জানান, সোনামুড়া সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক সংকট কিছুটা লাঘব করতে মহকুমাধীন বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে রোস্টার ডিউটি করানো হচ্ছে চিকিৎসকদের। সকালে জুমেরঢেপা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে চিকিৎসক আসতে না পারায় প্রায় দু’ঘণ্টা যাবত চিকিৎসা পরিষেবার বন্ধ ছিল সোনামুড়া সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। কারণ গতকাল বিকেল থেকে ডিউটি করতে থাকা এক মহিলা চিকিৎসক সকাল সাড়ে দশটায় শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর পরিষেবা বন্ধ হয়ে পড়লে মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক ডক্টর রাজেশ দাস এসে রোগী দেখা শুরু করেন। তবে চিকিৎসকের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা কতটা সত্যতা রয়েছে সেটাও বড় প্রশ্ন। কারণ হাসপাতলে কর্তব্যরত সেই দুই চিকিৎসক গত কয়েকদিন আগেও অসুস্থতার অভিযোগ তুলেছিলেন সংবাদ মাধ্যমের কাছে। কিছুদিন পর পর এভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টা নিয়ে দ্বন্দ্বে রোগী এবং রোগীর পরিবার।

