স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ১ জুলাই : বর্তমান সরকার স্বচ্ছ নিয়োগ নীতির কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে বিলম্ব হয়। বিভিন্ন অফার বন্টন অনুষ্ঠানে গিয়ে এমনটাই দাবি করছেন মন্ত্রীরা। অথচ সরকারের বিলম্বের জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই বয়স উত্তীর্ণ হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার বেকার। রাস্তায় নেমে সরকার, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিক এবং মন্ত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করল কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। তাই আবার প্রতিবাদের ভাষা না বদলে ধরন বদলে যাচ্ছে বেকার মহল। রাস্তায় নেমে সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার সামনেই চাকুরীর কাগজপত্র ছিঁড়ে স্মার্ট সিটির রাস্তার ড্রেনে ফেলে দিচ্ছে বেকাররা। এই দৃশ্য ভূ-ভারতে হয়তো প্রথম।
মঙ্গলবার এমনটাই দৃশ্য সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়লো স্পেশাল এক্সিকিউটিভ চাকুরীর প্রত্যাশী বেকারদের কাছ থেকে। তাদের অভিযোগ, ২০২২-২৩ সালে রাজ্য সরকার রাজ্য পুলিশের অধিন ৬ হাজার ৬৭ জন স্পেশাল এক্সিকিউটিভ নিয়োগের ঘোষণা দেয়। সেই মোতাবেক ইন্টারভিউ নেওয়া হয়। ইন্টারভিউ নেওয়ার পর সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে যায়। প্রকাশ করা হয় নি মেরিট লিস্ট। চাকুরি প্রত্যাশীরা সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারের সাথে বারে বারে সাক্ষাৎ করার পরও কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। মিলেছে শুধুই আশ্বাস। এই পরিস্থিতিতে চাকুরি প্রত্যাশীরা মঙ্গলবার পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপারের সাথে সাক্ষাৎ করে। এইদিনও পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপারের কাছ থেকে তারা আশ্বাস পায়। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়ে চাকুরি প্রত্যাশীরা এইদিন শিশু বিহার স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখায়।
তাদের দাবি অবিলম্বে মেরিট লিস্ট প্রকাশ করে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হোক বলে জানান। কিন্তু আন্দোলনে কিছু যুবক মেজাজ হারিয়ে ড্রেনের মধ্যে চাকুরির কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলে দেন। এক চাকুরী প্রত্যাশী যুবক জানান আজকের পর থেকে আর কিছুই বলবে না। সরকার যখন খুশি তখন চাকরি প্রদান করুক। আমাদের লাগবে না চাকরি! তাই কাগজপত্র সমস্ত কিছু ছেড়ে রাস্তায় ফেলে দিচ্ছে! রাজ্যের বেকারদের এই দৃশ্য দেখে প্রত্যক্ষদর্শীরা হতবাক হয়ে পড়ে। কতটা হতাশা গ্রস্ত হতে পারলে বেকাররা চাকুরীর কাগজ ছিঁড়ে ফেলতে পারে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

