স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৫ মে : সর্ষে ভূত! রক্ষক এবার ভক্ষক হয়ে গেল! নেশা সামগ্রী আটক করে খোলা বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে চারজন পুলিশ কর্মীকে গ্রেফ*তার করলো তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ। অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে অভিযোগ ছিল রাজ্যে রমরমা নেশা বাণিজ্যের পিছনে হাত রয়েছে একাংশ পুলিশ কর্মীর। একাংশ পুলিশ কর্মী রাতারাতি ধনি হওয়ার লোভে হাত মিলিয়েছে নেশা কারবারিদের সাথে। যার কারনে মুখ্যমন্ত্রীর নেশা মুক্ত রাজ্য গড়ার স্বপ্ন বারে বারে বাধা প্রাপ্ত হচ্ছে। তা এইবার প্রমানিত। এইবার তেলিয়ামুড়া থানায় মাদক কাণ্ডে গ্রেপ্তার ৪ পুলিশ কর্মী। ধৃতরা হল তেলিয়ামুড়া থানার মহিলা সাব-ইন্সপেক্টর সম্পা দাস, ইন্সপেক্টর অজিত দেববর্মা, রাজেন্দ্র রিয়াং ও এস.বি ইনচার্জ এ.এস.আই শচীন্দ্র দেববর্মা। জানা যায় ২০ মে গভীররাতে নেশা বিরোধী অভিযান চালিয়ে তেলিয়ামুড়া থানার মহিলা সাব-ইন্সপেক্টর শম্পা দাসের নেতৃত্বে পুলিশ ৬০০ বোতল নেশা জাতীয় কফ সিরাপ উদ্ধার করে। কিন্তু জানা যায় যে গাড়ি থেকে ৬০০ বোতল নেশা জাতীয় কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছিল, সেই গাড়িতে ৬০০ বোতল নয় বরং ৬ হাজার বোতল নেশা জাতীয় কফ সিরাপ ছিল।
পুলিশ নেশাকারবারিদের সাথে গোপন আতাত করে মাত্র ১ হাজার বোতল নেশা জাতীয় কফ সিরাপ উদ্ধার করে। তার থেকে ৬০০ বোতল থানায় বাজেয়াপ্ত দেখিয়ে বাকি ৪০০ বোতল খোলা বাজারে বিক্রয় করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই খবর জেলা পুলিশ সুপারের কাছে পৌঁছানোর পর জেলা পুলিশ সুপার নড়েচড়ে বসেন। তড়িঘড়ি তেলিয়ামুড়া থানার তিন পুলিশ কর্মীকে শনিবার এসপি অফিসে ক্লোজড করা হয়। এবং জেলা পুলিশ সুপার অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন বলে জানা যায়। জানা যায় প্রাথমিক তদন্তের পর তেলিয়ামুড়া থানার মহিলা সাব-ইন্সপেক্টর সম্পা দাস, ইন্সপেক্টর অজিত দেববর্মা, রাজেন্দ্র রিয়াং ও এস.বি ইনচার্জ এ.এস.আই শচীন্দ্র দেববর্মার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এবং তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার তেলিয়ামুড়া থানার মহিলা সাব-ইন্সপেক্টর সম্পা দাসকে গ্রেপ্তারের পর মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য থানা থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
মেডিক্যাল পরীক্ষার পর চার অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীকে খোয়াই জেলা আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। খোয়াই জেলার অতিরিক্ত পুলিশ অফিসার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান ২০ মে তেলিয়ামুড়া থানা এলাকা থেকে নেশা জাতীয় কফ সিরাপ উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে কিছু অভিযোগ উঠে। এই বিষয়ে জানতে পারেন জেলা পুলিস সুপার। জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে পৃথক একটি মামলা দায়ের করা হয় তেলিয়ামুড়া থানায়। চার পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকের নির্দেশে এই মামলার তদন্ত ভার দেওয়া হয় রাজ্য পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ এন্টি নারকোটিক্সকে। ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি। সোমবার দুপুরে তাদের খোয়াই জেলা ও দায়রা আদালতে তোলে। আদালত তাদের পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠায়। এই ঘটনা আবারো প্রমান করল রাজ্যের রমরমা নেশা বাণিজ্যের পিছনে হাত রয়েছে একাংশ পুলিশ কর্মীর। ত্রিপুরা রাজ্যকে নেশা মুক্ত রাজ্য গড়তে হলে প্রথমে এই ধরনের পুলিশ কর্মীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলে অভিমত অভিজ্ঞ মহলের।

