স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২৫ জুন :প্রদেশ যুব মোর্চার উদ্যোগে বুধবার আগরতলার সুকান্ত একাডেমি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় মক পার্লামেন্ট। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা, প্রদেশ বিজেপি সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য, এবং প্রদেশ যুব মোর্চার সভাপতি সুশান্ত দেব সহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রেখে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙ্গে পড়লে বা বহিরাগত শত্রু দেশের মধ্যে আক্রমণ করলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা যায়। কিন্তু তা করেননি। ১৯৭৫ সালে ২৫ জুন থেকে ১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ পর্যন্ত ২১ মাস দেশে জরুরি অবস্থা ছিল। এটা দেশের জন্য কালো দিন।
দেশের জরুরি অবস্থা সম্পর্কে সকলকে অবশ্যই জানা প্রয়োজন। কারণ গোটা দেশে এক অসহনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে ছিল। আইন বলতে কোন কিছুই ছিল না সেই সময়। যারাই এই জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন তারাই গ্রেফতার হয়েছিলেন। তারপর এর বিরুদ্ধে যখন দেশে প্রতিবাদ হয় তখন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, যেদিন থেকে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন সেদিন থেকে কিভাবে দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করতে হয় এবং সংবিধানকে সম্মান দিতে হয় সেটা দেখতে পাচ্ছে দেশের জনগণ। ৩৭০ ধারার ৩৫ -এ বিষয়ে অনেকে অনেক কথা বলেন। যে কারণে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী প্রথম মন্ত্রিসভা থেকে বের হয়ে এসেছিলেন।
৩৭০ এবং ৩৫ ধারার প্রতিবাদ করেন। কারণ এক দেশের মধ্যে দুটি দেশ কিভাবে হবে সেটা সেসময় সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে উঠেছিল দেশের মধ্যে। সুতরাং সংবিধানকে প্রথম থেকেই ভুল পথে পরিচালনা করার চেষ্টা করেছে তৎকালীন কংগ্রেস সরকার। এবং প্রশ্ন তুলেছিলেন জম্মু আমাদের দেশ হওয়ার পরেও কেন সেখানে যেতে হলে পারমিট নিতে হবে? তারপরই তিনি যখন জম্মুতে প্রবেশ করেছিলেন তখন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির মৃত্যুর পরেই পারমিট কথা তুলে নেওয়া হয়। যার কারণেই ৩৭০ এবং ৩৫ এ ধারা বিলোপ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংবিধানকে মর্যাদা দেওয়ার জন্যই তিনি এই কাজটি করেছিলেন বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা, যা ২৫ জুন থেকে ২১ মার্চ, ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত চলেছিল, ভারতের ইতিহাসে একটি বিতর্কিত অধ্যায়। এই সময়ে, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলী আহমেদ সংবিধানের ৩৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী “অভ্যন্তরীণ গোলযোগ” এর কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। এর মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিরোধীদের আন্দোলন, সেই সাথে ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ।

