স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২১ জুন :২১ জন আন্তর্জাতিক যোগা দিবস। শনিবার ১১ তম আন্তর্জাতিক যোগা দিবস। এই দিনটি যথাযথ মর্যাদার সাথে রাজ্য পালন করা হয়। রাজ্যের মূল অনুষ্ঠানটি হয় হাঁপানিয়া স্থিত আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গনে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রেখে বলেন, গোটা রাজ্যে একযোগে এই যোগা দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইউনাইটেড নেশন জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে প্রস্তাব রেখেছিলেন একুশে জুন আন্তর্জাতিক যোগা দিবস হিসেবে পালন করার জন্য। তারপর থেকে বিশ্বের ১৭৭ টি দেশ একযোগে সমর্থন করেছিলেন। ২০১৫ সালে ২১ জুন প্রথম আন্তর্জাতিক যোগা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। তারপর থেকে প্রতিবছর গোটা দেশে এবং বিশ্বের বহু দেশে আন্তর্জাতিক যোগা দিবস পালন করে আসছে। আমাদের দেশের মুনি ঋষিরা যুগ যুগ ধরে ব্যায়াম করে আসছে। এ বছরের থিম হলো ইয়োগা ফর আরথ ওয়ান হেলথ। এই থিম এখন বাস্তব অর্থে পালন হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মডার্ন যুগে সকলে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত।
নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা মোবাইলের উপর আকর্ষণ বেশি। তাই সকলে যাতে যোগা করে নিজের শরীরকে সুস্থ রাখে। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী এইডস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, উত্তর পূর্বাঞ্চলের মধ্যে এইডসের ক্ষেত্রে ত্রিপুরার অবস্থান খুব একটা ভালো নয়। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা এইডসে পর্যন্ত আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। ত্রিপুরাতে এইডস রুখতে গণ আন্দোলন খুব প্রয়োজন। এই ভাইরাস সম্পর্কে সকলকে সচেতন করতে হবে এবং চিকিৎসার সম্পর্কে অবগত করতে হবে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা করা গেলে এই রোগ থেকে কিছুটা হলেও সুস্থ থাকা যায়। তবে এই ভাইরাস শরীর থেকে কোন ভাবে বের করা যায় না। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ছেলে মেয়েদের দিকে নজর রাখতে হবে অভিভাবকদের। তারা কোথায় যাচ্ছে কি করছে সেদিকে নজর না রাখলে আগামী দিন পরিস্থিতি উদ্বেগ জনক হতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাত্র-ছাত্রী ও নিরাপত্তা কর্মীদের সাথে যোগাতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া মন্ত্রী টিংকু রায়, উপাধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল, বিধায়িকা মিনা রানী সরকার, মুখ্য সচিব জে কে সিনহা, রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক অনুরাগ ধ্যাণকর সহ অন্যান্যরা।

