স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৩ জুলাই : সোমবার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায়। তারপর রয়েছে সিপাহীজলা-জেলা। পশ্চিম ত্রিপুরায় বৃষ্টিপাত হয়েছে একশ আইত্রিশ মিলিমিটার। সিপাহীজলা জেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ১১৬ মিলিমিটার। সোমবার আবহাওয়া দপ্তরের এক অধিকর্তা এই কথা জানান আধিকারিক ড. পার্থ রায়। তিনি বলেন আগামী তিন দিন রাজ্যে মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকবে। তাই চারদিন বাড়ি থেকে অতি ভারীর বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করা হচ্ছে আবহাওয়া দপ্তর থেকে। সোমবার পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় এবং সিপাহীজলা জেলায় কমলা সর্তকতা জারি করা হয়েছে। বাকি জেলায় গুলিতে হলুদ সর্তকতা জারি রয়েছে।
১৪ জুলাই থেকে বৃষ্টিপাত কমবে বলে আশা করছে আবহাওয়া দপ্তর। কিন্তু ১৪ জুলাই পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা, গোমতী জেলা, খোয়াই জেলা এবং সিপাহীজলা জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ১৫ এবং ১৬ জুলাই পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা, সিপাহীজলা জেলা, গোমতী জেলা এবং দক্ষিণ জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। এদিকে সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা জানান, দুইদিন পূর্বে প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ আধিকারিক সহ বিভিন্ন জেলার জেলা শাসকদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। ২০২৪ সালের বন্যা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য সকলকে প্রস্তুত থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারন দুর্যোগ আটকানো যাবে না। তাই প্রস্তুত থাকতে হবে সর্বদা। অপরদিকে ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত উচ্চ মাধ্যমিকের সোমবারের বছর বাচাও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৫ জুলাই। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে সোমবারের পরীক্ষার দীনক্ষণ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই সংবাদ জানান পর্ষদ সভাপতি ডঃ ধনঞ্জয় গণচৌধুরী। তিনি জানান ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের বছর বাচাও পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ৬ জুলাই। ১০ জুলাই মাধ্যমিকের বছর বাচাও পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়।
উচ্চ মাধ্যমিকের বছর বাচাও পরীক্ষা ১৩ ও ১৪ জুলাই অর্থাৎ দুই দিনের পরীক্ষা বাকি ছিল। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে ওনাকে ফোন করে জানানো হয় সোমবারের পরীক্ষা যেন পিছিয়ে দেওয়া হয়। তারপর শিক্ষা অধিকর্তা সহ একাধিক জেলার জেলা শাসকরাও সোমবারের পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য বলেন। সেই মোতাবেক সোমবারের পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৫ জুলাই। সেদিন অনুষ্ঠিত হবে আজকের অংক, ভূগোল এবং শিক্ষাবিজ্ঞান পরীক্ষা। অন্যদিকে রবিবার রাত্রি থেকে ভারি বর্ষণের ফলে পশ্চিম জেলার কিছু কিছু স্থানে জল জমে গেছে। কাটাখাল ও হাওড়া নদীর জল বিপদজ্জনক স্তরে বইছে। দুর্গা চৌমুহনী থেকে প্রগতি স্কুলের পিছনে কাটা খালের পাড়ের রাস্তার পাশের মাটি ধ্বসে গিয়েছে। তাই আগাম সতর্কতা হিসাবে এই বাধের পাড়ের রাস্তা দিয়ে যান চলাচলে কিছু নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কাটা খাল ও হাওড়া নদীর পাড়ের বাধ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে ইঞ্জিনিয়াররা। সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই কথা বলেন পশ্চিম জেলার জেলা শাসক। তিনি বড় যান চালকদের প্রতি আহ্বান জানান আগামি তিন থেকে চার মাস যেন তারা যানবাহন নিয়ে কাটা খাল ও হাওড়া নদীর বাধ দিয়ে চলাচল না করে। বড় যানবাহন চলাচলের ফলে কাটা খাল ও হাওড়া নদীর পাড়ের বাধের ক্ষতি হতে পাড়ে।

