চেন্নাই, ৫ মে (হি.স.) : তামিলনাড়ুর ভারপ্রাপ্ত রাজ্যপাল আর.ভি. আরলেকর মঙ্গলবার চেন্নাই পৌঁছাচ্ছেন। তাঁর আগমনের আগেই সরকার গঠন নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করার পর সরকার গঠন করতে চেয়ে রাজ্যপালকে ইমেল পাঠিয়েছেন টিভিকে সভাপতি বিজয়। চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে তিনি প্রস্তুত।
তামিলনাড়ুর নির্বাচনী ফলাফল ৫৯ বছরের দ্রাবিড় রাজনীতির একাধিপত্যে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গড়তে প্রয়োজন ১১৮টি আসন। কিন্তু বিজয়ের দল ১০৮টি আসনে থমকে যাওয়ায় ম্যাজিক ফিগার থেকে তারা এখনও ১০টি আসন দূরে রয়েছে।
বিজয় পেরাম্বুর এবং তিরুচি ইস্ট—এই দুটি আসন থেকেই জয়ী হয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, তাঁকে একটি আসন থেকে ইস্তফা দিতে হবে। এছাড়া দলের একজনকে স্পিকার পদে মনোনীত করতে হবে। যেহেতু ভোটাভুটির সময় স্পিকার ভোট দিতে পারেন না, তাই বিজয়কে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য আরও ১২ জন বিধায়কের সমর্থন জোগাড় করতে হবে।
এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিজয়কে এখন অন্য দলগুলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, ডিএমকে জোটের শরিক কংগ্রেস (৫টি আসন), বাম দল (৪টি আসন), মুসলিম লিগ ও ভিসিকে-র মতো দলগুলো বিজয়কে সমর্থন দিতে পারে। অন্যদিকে এআইএডিএমকে জোটের শরিক পিএমকে (৪টি আসন) এবং বিজেপির (১টি আসন) সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই সমস্ত ছোট দল পাশে দাঁড়ালে বিজয়ের শক্তি ১২৮-এ পৌঁছে যাবে।
রাজ্যপাল আরলেকর চেন্নাই পৌঁছানোর পর দুটি পদক্ষেপ নিতে পারেন। প্রথমত, একক বৃহত্তম দলের নেতা হিসেবে বিজয়কে সরকার গড়তে ডেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সুযোগ দিতে পারেন। দ্বিতীয়ত, বিজয়কে তাঁর সমর্থক দলগুলোর সমর্থনপত্র জমা দিতে বলতে পারেন। যদি বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হন, তবে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে ডিএমকে-কে সুযোগ দেওয়া হবে। আর কোনও পক্ষই যদি সরকার গড়তে না পারে, তবে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে।
তামিলনাড়ুর ইতিহাসে কি এই প্রথম কোনও জোট সরকার গঠিত হবে, নাকি ফের নির্বাচনের পথে হাঁটবে রাজ্য—তা এখন রাজ্যপালের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

