গুয়াহাটি, ৪ মে (হি.স.) : ১২৬ আসনের অসম বিধানসভায় ১০২টি আসনে জয়লাভ করেছে এনডিএ। এর মধ্যে বিজেপি একাই পেয়েছে ৮২টি আসন। বিরোধীদের কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৪-এ।
জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) অসমে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পথে। তারা ১২৬ সদস্যের বিধানসভায় ১০২টি আসন জিতে দুই-তৃতীয়াংশের সীমা অতিক্রম করে রাজ্যে তাদের শক্তিশালী ফলাফল অর্জন করেছে।
ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) প্রধান শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বিজেপি যে ৯০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল তার মধ্যে ৮২টিতে জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তাদের মিত্র দল অসম গণ পরিষদ (অগপ) এবং বডোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (বিপিএফ) প্রত্যেকে ১০টি করে আসন জিতে জোটের মোট সংখ্যা আরও শক্তিশালী করেছে।
এই ফলাফল বিজেপির জন্য একটি বড় উত্থান। কেননা ২০১৬ এবং ২০২১ সালের নির্বাচনে তারা ৬০টি করে আসন জিতেছিল। এবারের ফলাফল রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের সমর্থনভিত আরও মজবুত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে দুর্বল ফল করেছে। ৯৯টি আসনে লড়াই করে তারা মাত্র ১৯টিতে জিততে পেরেছে। তাদের মিত্রদের অবস্থাও খারাপ। এআইইউডিএফ এবং রাইজর দল দুটি করে আসন পেয়েছে। আর তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র একটি। অন্যান্য মিত্র দল যেমন অসম জাতীয় পরিষদ, সিপিআই(এম) এবং এপিএইচএলসি কোনও আসনেই জিততে পারেনি।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা জালুকবাড়ি আসনে টানা ষষ্ঠবারের মতো জয়ী হয়েছেন। তিনি কংগ্রেস প্রার্থী বিদিশা নেওগকে ৮৯,৪৩৪ ভোটে পরাজিত করেছেন। কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে প্রদেশ সভাপতি গৌরব গগৈ যোরহাট আসনে বিজেপির হিতেন্দ্রনাথ গোস্বামীর কাছে ২৩,১৮১ ভোটে হেরে গেছেন।
বিজেপির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা ও মন্ত্রী যেমন অজন্তা নেওগ, ডা. রণোজ পেগু, পীযূষ হাজরিকা, অশোক সিংঘল, জয়ন্তমল্ল বরুয়া, কৌশিক রায়, কৃষ্ণেন্দু পালরা তাদের আসন ধরে রেখেছেন। বিধানসভার অধ্যক্ষ বিশ্বজিখ দৈমারি তামুলপুর থেকে জয়ী হয়েছেন। তিনি ইউপিপিএল নেতা প্ৰমোদ বড়োকে পরাজিত করেছেন। আরও অনেক বর্তমান বিজেপি বিধায়ক পুনর্নির্বাচিত হয়ে রাজ্যজুড়ে দলের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করেছেন।
মিত্র দলগুলোর মধ্যে অগপর অতুল বরা এবং কেশব মহন্ত যথাক্রমে বোকাখাত এবং কালিয়াবর আসনে জয়ী হয়েছেন। বিপিএফ-এর চরণ বড়ো ও শেউলি মহিলারি বডোল্যান্ড অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ আসন ধরে রেখেছেন।
কংগ্রেসের বিজয়ীদের মধ্যে ওয়াজেদ আলি চৌধুরী, জাকির হোসেন শিকদার এবং রেকিবুদ্দিন আহমেদ উল্লেখযোগ্য হলেও দলের মোট আসন সংখ্যা সীমিতই রয়ে গেছে। এআইইউডিএফ-প্রধান বদরউদ্দিন আজমল বিন্নাকান্দি থেকে জয়ী হয়েছেন। আর রাইজর দল-এর সর্বেসর্বা অখিল গগৈ শিবসাগর আসনে বিজয়ী হয়েছেন।
বিরোধী শিবিরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা পরাজিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়া এবং অসম জাতীয় পরিষদের সভাপতি লুরিণজ্যোতি গগৈ।
নারী প্রতিনিধিত্ব কমে গেছে। ৫৯ জন মহিলা প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ছয়জন নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে চারজন বিজেপির এবং একজন করে অগপ, বিপিএফ এবং কংগ্রেস-প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
সমস্ত ১২৬টি আসনে ৯ এপ্রিল এক দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নির্বাচনে ৭২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবারের ফলাফল এনডিএ-র জন্য একটি স্পষ্ট জনমত নির্দেশ করে, অন্যদিকে বিরোধীদের জন্য তাদের ক্রমহ্রাসমান রাজনৈতিক উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

