স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৭ এপ্রিল : উপভোটের প্রচারের অন্তিম লগ্নে এসে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। মঙ্গলবার সকালে কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী চয়ন ভট্টাচার্যের সমর্থনে ধর্মনগর শহর জুড়ে আয়োজিত হল এক বিশাল বাইক মিছিল। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক পরিক্রমা করা এই র্যালিতে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো, যা কার্যত নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের শক্তিপ্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত হয়। র্যালির অগ্রভাগে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। শাসক বিজেপি-র বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি দলই নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে নামে, কিন্তু ধর্মনগরের মানুষ এবার বিজেপির বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন।
তারা কংগ্রেসকে বিপুল ভোটে জয়ী করবেন। তাঁর এই বক্তব্যে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা যায়। এদিন কংগ্রেস প্রার্থী চয়ন ভট্টাচার্যও সরাসরি নিশানা করেন ক্ষমতাসীন বিজেপি-,তিপ্রা মথা ও আইপিএফটি জোট সরকারকে। তাঁর অভিযোগ, ২০১৮ সালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির একটিও পূরণ করতে পারেনি বিজেপি। ২০২৩ সালের নির্বাচনে নতুন কৌশল ও জোট রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতায় এলেও সাধারণ মানুষের আস্থা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। তিনি বলেন, মানুষ আজ অনেক বেশি সচেতন। যাদের ওপর ভরসা করেছিল, সেই বিশ্বাস আজ ভেঙে গিয়েছে। একইসঙ্গে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে দাবি করেন, বর্তমান সরকার রাজ্যের দীর্ঘদিনের ট্রাইবাল ও নন-ট্রাইবাল সম্প্রীতিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। স্থানীয় ইস্যুতেও সরব হন চয়ন ভট্টাচার্য।
তাঁর বক্তব্য, ধর্মনগরের স্বাস্থ্য পরিষেবা, পানীয় জল, নিকাশি ব্যবস্থা থেকে শুরু করে যুব সমাজের কর্মসংস্থান—প্রতিটি ক্ষেত্রেই চরম ব্যর্থতা স্পষ্ট। “পুরো প্রশাসনই আজ দুর্নীতিতে জর্জরিত,” বলে তোপ দাগেন তিনি। পাশাপাশি, সংস্কৃতির শহর হিসেবে পরিচিত ধর্মনগরের ঐতিহ্য ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলেও দাবি করেন কংগ্রেস প্রার্থী।নিজের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি জানান, ধর্মনগর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বাজার এলাকায় অগ্নিকাণ্ড রোধে পাকা পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং ই-রিকশা চালুর মতো পদক্ষেপের ফলে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার মানুষের জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।বক্তব্যের শেষে আবেগঘন সুরে ধর্মনগরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি আবারও সেবার সুযোগ প্রার্থনা করেন। নির্বাচনের মুখে এই বিশাল বাইক মিছিল ও তীব্র রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ ঘিরে ধর্মনগরের রাজনৈতিক আবহ এখন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

