বাড়িরাজ্যমুখ্যমন্ত্রীর সভায় যাওয়ার সময় দুষ্কৃতিকারীরা গুলি ছুঁড়েছে, তীব্র নিন্দা মুখ্যমন্ত্রীর

মুখ্যমন্ত্রীর সভায় যাওয়ার সময় দুষ্কৃতিকারীরা গুলি ছুঁড়েছে, তীব্র নিন্দা মুখ্যমন্ত্রীর

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৭ এপ্রিল :  মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় যোগ দিতে আসা দলীয় সমর্থিতদের গাড়ি লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনা তেলিয়ামুড়া মহকুমার মেরেং বাজার সংলগ্ন এলাকায়। ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী ছুটে যায়। মুখ্যমন্ত্রীর জনসভা কে বানচাল করতে এই প্রচেষ্টা। দুষ্কৃতিরা একটি মোবাইল ছিনতাই করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, তেলিয়ামুড়ার দুষ্কি বাজারে এডিসি নির্বাচন উপলক্ষে বিজেপি দলের উদ্যোগে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য যখন কল্যাণপুরের আর এস পাড়া এবং সন্নিহিত এলাকার বিজেপি সমর্থকেরা সভাস্থলের দিকে আসছিলেন তখন কল্যাণপুর থানার অন্তর্গত মেরুং বাজার এলাকাতে আক্রমণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে জনৈক বিজেপি কর্মী রথীন্দ্র দেববর্মা দাবি করেছেন হঠাৎ করে মাথা দল আশ্রিত দুষ্কৃতিকারীরা তাদের পথ আগলে দাঁড়ায় এবং দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ার পাশাপাশি একটা গ্রেনেড ছোঁড়া হয়। তবে গ্রেনেড বিস্ফোরণ না হওয়ায়  বড়সড়ো বিপদ এড়ানোর সম্ভব হয়েছে।

 তবে তিনি জানিয়েছেন ১০ থেকে ১৫ জন আহত হয়েছে। প্রচুর যান বহন মথা দলের দুষ্কৃতিকারীরা ভেঙে ফেলেছে। স্বাভাবিকভাবেই মুখ্যমন্ত্রীর সভায় যাওয়ার সময় শাসকদলের কর্মী সমর্থকরা এইভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছেন প্রকাশ্য ও দিনের বেলায় গুলি ছোড়া হয়েছে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী থমথমে পরিস্থিতি হলেও নিয়ন্ত্রণ সবটাতেই। এদিকে জনসভায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তিপরা মথাকে এক হাত নিলেন। মুখ্যমন্ত্রী মহারানীপুর-তেলিয়ামুড়া কেন্দ্রের প্রার্থী বিল্লু জমাতিয়া এবং মান্দাই পুলিনপুর আসনের প্রার্থী রাজেশ সমর্থনে এই জনসভার আয়োজন করা হয়। জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মথা একদিকে শান্তির কথা বলে অন্যদিকে রাজনৈতিক সন্ত্রাস করে জনগণকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এইসব জনগণ কোন অবস্থাতেই মেনে নেবে না। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, মথার মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। আজকের কর্মসূচিতে যাবার সময়েও সন্ত্রাস করে লোকজনকে আটকে দিয়েছে মথা নামধারীরা। এমনকি গুলিও চালিয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অনেক প্রচেষ্টার পর ত্রিপুরা সহ সমগ্র উত্তর পূর্বাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন। কোন অবস্থাতেই এই শান্তি বিনষ্ট করতে দেয়া হবে না।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপি-র জয় নিশ্চিত, মানুষকে ভয় দেখিয়ে কোন লাভ হবে না। জনগণের অ্যাকশন শুরু হলে পালিয়ে যাবারও সুযোগ পাবে না মথা। এই জনসভায় বিজেপি এসটি মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি সমীর ওরাং,  জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, বিধানসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণী রায় এবং বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। খবর লেখা পর্যন্ত পুলিশ দুষ্কৃতিকারীদের যাবে তুলতে পারেনি। তবে এদিন কার এই গ্রেনেড হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা অতীতের বহু স্মৃতি উস্কে দিল। স্মরণ করে দিল ২০০০ সালের পাহাড় নির্বাচনের ঘটনাও। কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে পাহাড়ে পুলিশ প্রশাসন কি করছে? দুষ্কৃতকারীদের হাতে গ্রেনেড চলে এসেছে অথচ পুলিশ প্রশাসনের কাছে খবর নেই। এ কেমন প্রশাসন চলছে পাহাড়ে। যারা গ্রেনেড হামলা করল তারা কি সত্যিকার অর্থে দুষ্কৃতি নাকি সন্ত্রাসবাদীদের কালো ছায়া?

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য