Tuesday, February 3, 2026
বাড়িজাতীয়ব্যক্তিগত চ্যাটে উঁকি দেয় হোয়াটসঅ্যাপ! ‘ভারত ছেড়ে চলে যান’, মেটাকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম...

ব্যক্তিগত চ্যাটে উঁকি দেয় হোয়াটসঅ্যাপ! ‘ভারত ছেড়ে চলে যান’, মেটাকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক ০৩ ফেব্রুয়ারি : কোনও ভারতীয় নাগরিকের ব্যক্তিগত পরিসরে উঁকি দিতে দেওয়া হবে না। কোনও রকম আপস নয় গোপনীয়তার প্রশ্নেও। হোয়াটসঅ্যাপের নতুন সুরক্ষাবিধি নিয়ে মঙ্গলবার এই ভাষাতেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেটাকে ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট বার্তা, সংবিধান মানতে না পারলে ভারত ছেড়ে চলে যান!

২০২১ সালে হোয়াটসঅ্যাপে নয়া সুরক্ষাবিধি কার্যকর হয়েছিল। তা নিয়ে অনেকেই সেই সময় আপত্তি জানান। অভিযোগ, নতুন বিধিতে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের কথা বলা হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, নয়া সুরক্ষাবিধিতে সম্মতি না দিলেন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে মেটা। এই অভিযোগের ভিত্তিতে হোয়াটসঅ্যাপকে ২১৩ কোটি টাকার জরিমানাও করে কম্পিটিশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া (সিসিআই)। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রাহকদের তথ্য মেটার অন্যান্য সংস্থার হাতে তুলে দেওয়াতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় জাতীয় কোম্পানি আইন আপিল ট্রাইবুনাল (এনসিএলএটি)। তবে বহাল রাখা হয় জরিমানার নির্দেশ।

এনসিএলএটি-র রায়ের বিরুদ্ধেই মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে। মঙ্গলবার সেই মামলারই শুনানি ছিল। শীর্ষ আদালতের প্রশ্ন, হোয়াটসঅ্যাপের নতুন সুরক্ষাবিধি কি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব? কোনও গরিব পরিবারের মহিলা বা রাস্তার কোনও দোকান কিংবা যিনি শুধু তামিল জানেন, তিনি কি নয়া সুরক্ষাবিধি বুঝতে পারবেন? সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ বলে, “কখনও কখনও আমাদেরই বুঝতে অসুবিধা হয়। বিহারের গ্রামগঞ্জের মানুষ কী ভাবে বুঝবেন?”

শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই ধরনের ঘটনা আদতে ব্যক্তিগত তথ্যচুরির পর্যায়েই পড়ে। সুপ্রিম কোর্ট তা হতে দেবে না বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতিরা। মেটার উদ্দেশে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, “যদি আপনারা সংবিধান মানতে না পারেন, ভারত ছেড়ে চলে যান। আমরা ভারতীয় নাগরিকদের গোপনীয়তার সঙ্গে কোনও রকম আপস বরদাস্ত করব না।”

মেটার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছিলেন আইনজীবী মুকুল রোহতগি এবং অখিল সিবল। ব্যক্তিগত চ্যাটে উঁকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন তাঁরা। তাঁদের যুক্তি ছিল, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ‘এন্ড টু এন্ড এনক্রিপ্টেড’। যার অর্থ, সেই চ্যাট আর কেউ দেখতে পারবে না। যদিও তা শুনতে রাজি হননি প্রধান বিচারপতি।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য