স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক ০৩ ফেব্রুয়ারি : লাদাখে চিনা আগ্রাসন ইস্যুতে ফের উত্তাল সংসদ। মঙ্গলবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ভাষণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপি এবং লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে। এরপরই সংসদের ভিতরে প্রতিবাদে সরব হন বিরোধী সাংসদরা। অভব্য আচরণ এবং স্পিকার ওম বিড়লার দিকে কাগজ ছোড়ার অভিযোগে সাসপেন্ড হতে হল ৮ জন কংগ্রেস সাংসদকে।
মঙ্গলবার বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনেও রাহুল লাদাখ প্রসঙ্গ তোলেন। সোমবারের মতো এদিনও বিরোধী দলনেতা দাবি করেন, ২০২০-তে গালওয়ান কাণ্ডের আগে থেকেই লাগাতার চিনের কাছে জমি হারাচ্ছে ভারত। অথচ সরকার নীরব। স্বপক্ষে প্রমাণ দিতে তিনি ফের প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত জীবনী গ্রন্থ থেকে একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করেন। ঠিক তখনই হট্টগোল শুরু করেন বিজেপি সাংসদরা। অভিযোগ, গেরুয়া শিবির এবং লোকসভার স্পিকার মাঝপথেই রাহুলের ভাষণ থামিয়ে দেন। তারপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন কংগ্রেস-সহ বিরোধী শিবির। এরপরই আট কংগ্রেস সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয় বলে খবর। অভিযোগ, স্পিকারকে লক্ষ্য করে তাঁরা কাগজ ছোড়েন।
সাসপেন্ড হওয়া এক কংগ্রেস সাংসদ বলেন, “রাহুলের ভাষণে বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি নথিটি যাচাই করেই সংসদে জমা দিয়েছিলেন। আমরা এর প্রতিবাদ করেছিলাম। এটা অপরাধ?” অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর বলেন, “রাহুল গণতন্ত্র এবং সংসদকে অপমান করেছেন। তাঁর একটাই উদ্দেশ্য ছিল। ভারতীয় জওয়ানদের অপমান করা। এটাই এখন কংগ্রেসের এজেন্ডা। তারা কাগজ ছিঁড়ে ফেলে স্পিকারের দিকে ছুড়েছেন।”
সোমবারও লাদাখ ইস্যুতে উত্তাল হয়েছিল সংসদ। নিজের বক্তব্য প্রমাণ করতে গিয়ে শুরুতেই রাহুল প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত জীবনী গ্রন্থ থেকে একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করেন। বিরোধী দলনেতা বলেন, “জেনারেল নারাভানে বলছেন, কৈলাশ রেঞ্জে চিনা সেনা ভারতের অবস্থানের ১০০ মিটারের মধ্যে চলে এসেছিল…।” এর পর আর কিছু বলতে দেওয়া হয়নি রাহুলকে। বিরোধী দলনেতা এতদূর বলার পরই চড়া সুরে প্রতিবাদ শুরু করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। শাসক শিবির থেকে শুরু হয় চিৎকার। পালটা দেয় বিরোধী বেঞ্চও। রাজনাথ দাবি করেন, সংসদে এমন কোনও গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করা যায় না যেটা প্রকাশিতই হয়নি। অন্যদিকে, রাহুল দাবি করেন, যে উৎস থেকে এই বই তিনি পেয়েছেন সেটা ১০০ শতাংশ বিশ্বাসযোগ্য। তাতে পালটা রাজনাথ সেই একই প্রশ্ন করেন, “বইটি কি প্রকাশিত হয়েছে? অপ্রকাশিত গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করা যায় না।”
এরপর আসরে নামেন স্পিকার। রাজনাথের বক্তব্যকেই সমর্থন করেন তিনি। স্পিকার বলেন, “এই সদনে কোনওরকভাবে কোনও সংবাদ, বা বই নিয়ে আলোচনা হয় না। আর যে বই প্রকাশিত হয়নি সেটা নিয়ে বলার অনুমতি দেওয়া যায় না।” যার ফলে রাহুল যে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি তোলার চেষ্টা করছিলেন সেটাই চাপা পড়ে যায়। মঙ্গলবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল।

