স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৮ জানুয়ারি: ত্রিপুরায় রাজ্যভিত্তিক সহায়ক মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে চলতি মৌসুমের ধান ক্রয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলো বুধবার। উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগর বিবেকানন্দ সার্ধ শতবার্ষিকী ভবনে দুপুরে এই কর্মসূচির শুভ সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের খাদ্য দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, খাদ্য দপ্তরের বিশেষ সচিব দেবপ্রিয় বর্ধন, উত্তর ত্রিপুরা জেলার জেলা শাসক চান্দনী চন্দ্রান, জেলা সভাধিপতি অপর্ণা নাথ সহ জেলার বিভিন্ন বিধানসভার বিধায়কগণ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে ধান ক্রয় কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন খাদ্য দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।
পরে অতিথিদের মাথায় গামছা পরিয়ে ঐতিহ্যবাহীভাবে সংবর্ধনা জানানো হয়। তারপর মন্ত্রীর হাত ধরেই আনুষ্ঠানিক ভাবে ধান ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হয়। এদিকে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, “২০১৮ সালের পর থেকে বিজেপি পরিচালিত সরকার বছরে দু’বার কৃষকদের কাছ থেকে সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয় করে আসছে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। আজ ধর্মনগর থেকে এই কর্মসূচির সূচনা হলো এবং আগামী এক মাস ধরে রাজ্যজুড়ে মোট ৫০টি কেন্দ্রে ধান ক্রয় চলবে। তিনি আরও জানান, খাদ্য দপ্তরের উদ্যোগে এবং কৃষি দপ্তরের সহযোগিতায় এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হচ্ছে। কৃষকদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, “যতদিন ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার থাকবে, ততদিন কৃষকদের কাছ থেকে সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয় বন্ধ হবে না।
ধানের সহায়ক মূল্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, আগে যেখানে কেজি প্রতি ধান ১৭ টাকা ৫০ পয়সা দরে ক্রয় করা হতো, বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে কেজি প্রতি ২৩ টাকা ৬৯ পয়সা হয়েছে। আগামী দিনে এই মূল্য আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি জানান। মন্ত্রী জানান, চলতি মৌসুমে গোটা রাজ্য থেকে মোট ১৮ হাজার মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত মৌসুমে ছিল ১৭ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। এই লক্ষ্যমাত্রা রাজ্যের আটটি জেলার মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “সারা বিশ্বের মধ্যে ভারতবর্ষ ধান উৎপাদনে প্রথম স্থানে রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার ত্রিপুরা রাজ্যের জন্য এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কৃষকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সহজ পদ্ধতিতে ধান বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই কৃষকদের প্রাপ্য অর্থ সরাসরি তাঁদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

