স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২০ জানুয়ারি :জমি মাফিয়ার অভিযোগ উঠেছিল শাসক দলের এক বুথ সভাপতি উপর। এই অভিযোগের ২৪ ঘন্টার মধ্যে আবারো সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম দখল করলো শাসকদলের আরো এক বুথ সভাপতি। এই বুথ সভাপতি মহাশয় চুরির ঘটনায় পুলিশের জালে আটক হয়েছে। রাষ্ট্রবাদীর তকমা কাজে আসলো না বুথ সভাপতি। এই বুথ সভাপতি হলেন ১৪ বাধারঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিমল রৌদ্র পাল।
পিতা নরেশ রুদ্র পাল। বাড়ি পশ্চিম বেলাবর এলাকায়। অভিযুক্ত শাসক দলের বুথ সভাপতি চোরের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ক্রয় করেছিল নিজ জুয়েলারি দোকানে। বিমল রৌদ্র পাল চোর সংগঠনের অন্যতম নেতৃত্ব বলে মনে করছে পুলিশ। তাই তাকে জালে তুলেছে পুলিশ। পুলিশের কাছ থেকে জানা যায়, গত ১৬ ডিসেম্বর নয়নামুড়া এলাকায় থেকে একটি অভিযোগ আসে বাড়ির মালিকের আড়ালে দুই রংমিস্ত্রি স্বর্ণালংকার চুরি করেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আমতলী থানার পুলিশের সহযোগিতা চারিপাড়া লোকনাথ পাড়া এলাকা থেকে সঞ্জয় শর্মা ও প্রতাপ দাশ নামে দুজনকে আটক করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে চুরি করে স্বর্ণালঙ্কার গুলি তারা বেলাবর এলাকার এক জুয়েলারিতে বিক্রি করে দিয়েছে। জুয়েলারি মালিক হলেন বুথ সভাপতি বিমল রুদ্র পাল। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুলিশ বিমান পেয়ে আদালতে তুলে। আদালত ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত তাকে পুলিশ রিমান্ড দেয়। পুলিশ রিমান্ডের পর পুনরায় তাকে আদালতে তোলা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে অস্বস্তিতে পড়লেন পূর্ব আগরতলা থানার ওসি সুব্রত দেবনাথ। কারণ শাসকদল বলে কথা! তাই দুটি চুরির ঘটনা নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করলেও তিনি বুথ সভাপতি বিমল রৌদ্র পালের বিষয়ে কোনো কিছুই বলতে চাইছিলেন না। শেষ পর্যন্ত সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান বিমল রুদ্রপালকে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। সে স্বর্ণালঙ্কার গুলি ক্রয় করেছিল। তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরো একটি চুরির ঘটনার বিষয়ে বলেন গত সোমবার প্যালেস কম্পাউন্ড এলাকায় একটি দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা সংঘটিত হয়।
এদিন দুপুরবেলা মৌমিতা দেববর্মার বাড়ির লোকজনেরা ভাত খাওয়ার সময় ঘরে প্রবেশ করে এক চোর বিভিন্ন দামি কাপড় চুরি করে নিয়ে যায়। সাথে সাথে বিষয়টি পুলিশকে অবগত করার পর পূর্ব আগরতলা থানার পুলিশ কাটাখাল থেকে সুরজ দেববর্মা নামে একজনকে আটক করে চুরি যাওয়া কাপড়গুলি উদ্ধার করে। তাকে পুলিশ রিমান্ডের জন্য আদালতে তোলা হবে বলে জানান থানার ওসি। তবে শহর এলাকায় চুরির ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে সেটা নিঃসন্দেহে দাবি করছে সচেতন নাগরিক মহল। এবার এক চোরের ঘটনায় শাসকদলের বুথ সভাপতি নাম জড়িয়ে যাওয়ায় জনমনে আরো বেশি আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কারণ আগে কোন ঝামেলা কিংবা চুরির ঘটনা সংঘটিত হলে মানুষ স্থানীয় জনপদে নিজেদের কাছে যেত। কিন্তু সুশাসন ঝামেলায় জনপ্রতিনিধিরা চুরির ঘটনায় ধরা পড়ছে। বিষয়টি মোটেই স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে চাইছে না জনগণ। আসলে তার সঙ্গে কি আর বড় বড় চক্র জড়িত রয়েছে কিনা সেটাই এখন বড় বিষয়।

