স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২০ জানুয়ারি :শীতকালের বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে। রাত পোহালেই শ্রী পঞ্চমী বাণী বন্দনার সর্বত্র আয়োজন। মূর্তিপাড়ার চলছে শেষ প্রভুক্তির প্রস্তুতি। ব্যস্ত প্রতিমা শিল্পী খরবাস বেতের উপর এখন চলছে শেষ ফিনিশিং টাচ। সরস্বতী পূজার পাঁচালী এখন বাজারে পাওয়া যায়। মাসের একেবারে শেষের দাঁড়িয়ে এবারে সরস্বতী পুজো গৃহস্থের পকেট অনেকটাই ফাঁকা। তা বলে কি সরস্বতী পুজোর আয়োজনে কোন খামটি থাকবে? মোটেই নয়, বিশেষ করে বিদ্যার্থীরা বিদ্যালয়ের আশায় দেবী সরস্বতীর আবাহনে মেতে উঠেছে। চারিদিকে চলছে জোরদার প্রস্তুতি। পাড়ায় পাড়ায় প্যান্ডেল নির্মাণ, সেইসঙ্গে মূর্তি পাড়া এবং বাজারে দাম আকাশচুম্বি। আর দু-রাত পরেই বিনা পানি দেবী সরস্বতীর আরাধনা।
মৃৎ শিল্পীরা দিন রাত এক করে মূর্তি তৈরির কাজ করে যাচ্ছেন। এক মৃৎ শিল্পী জানান এই বছরের মূর্তির চাহিদা ভালই রয়েছে। মূর্তির দাম বিগত বছরের ন্যায় রয়েছে। তবে মূর্তি তৈরির সামগ্রীর মূল্য আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত বছরের তুলনায় এই বছর সরস্বতী পূজার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দিনটি কেবল পুজোর দিন নয়, বরং ঋতুরাজ বসন্তের শুভাগমন বার্তা। বসন্ত পঞ্চমী থেকেই প্রকৃতির রূপ বদলাতে শুরু করে। মনে করা হয়, এই দিনেই দেবী সরস্বতীর আবির্ভাব ঘটেছিল। তাই বাগদেবীর পাশাপাশি এদিন গণেশ, লক্ষ্মী ও বাদ্যযন্ত্রেরও পুজো করা হয়।
এদিন থেকেই শীতের প্রকোপ কমে বসন্তের হালকা হাওয়ার ছোঁয়া লাগে। বাঙালির লোকসংস্কৃতিতে এদিন কুল খাওয়ার রীতিটিও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কুলের অম্লতা যাতে শরীরে রোগ না ঘটায়, তাই পুজোর আগে কুল না খাওয়ার ধর্মীয় বিধান আসলে স্বাস্থ্য সচেতনতারই নামান্তর। সব মিলিয়ে ভক্তি, সংস্কৃতি আর নতুনের আবাহনে ২০২৬-এর বসন্ত পঞ্চমী হতে চলেছে অনন্য। মাঘের শুক্লা পঞ্চমী মানেই বসন্তের আগমনী। বাঙালির অঘোষিত ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’। সরস্বতী পুজোর সকালে হাতে হাত রেখে অঞ্জলি দেওয়া। আর হলদেটে আভার সাজে মিশে যাওয়ার আনন্দই আলাদা। বিশেষ করে প্রিয় মানুষের সঙ্গে রঙের মিল রেখে পোশাক পরার ধুম থাকে তুঙ্গে।

