স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২০ জানুয়ারি :দেশজুড়ে মন রেগা বাঁচাও কর্মসূচি হাতে নিয়েছে কংগ্রেস। মঙ্গলবার প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান, সারা দেশ জুড়ে মন রেগা বাঁচাও ৪৫ দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। গত ১০ জানুয়ারি থেকে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি বলেন, ৬০ শতাংশ গরিব মহিলার কাজের সন্ধান হয়েছে মন রেগার মাধ্যমে।
কিন্তু সরকারের নয়া আইন অনুযায়ী সমস্ত পঞ্চায়েত কাজ পাবে না। আগে মন রেগার মাধ্যমে সমস্ত পঞ্চায়েত কাজের সুযোগ পেত। কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নেবে কোন পঞ্চায়েত কাজ করবে এবং কোন রাজ্যে কোথায় কোথায় পঞ্চায়েত গুলি নির্ধারণ করে কাজ করার জন্য পঞ্চায়েতের ক্ষমতা থাকবে না। সরকার চাইছে এই দায়িত্ব যাতে রাজ্যের কর্পোরেটরদের হাতে তুলে দিতে পারে। তিনি আরো বলেন, ১২৫ দিনের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার শ্রমিকদের ৫০ দিনের কাজও দিতে পারে না। সেই জায়গায় কিভাবে তারা ১২৫ দিন কাজ দেবে? অথচ মন রেগায় শ্রমিকদের ১০০ দিনের যে কাজের সুযোগ ছিল সেটা পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি ১৫ দিনের মধ্যে শ্রমিকদের কাজ দিতে না পারলে শ্রমিকদের ভাতার যে সুযোগ ছিল সেটা পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগ জনক বিষয় হলো গত কয়েক বছরে এ সরকার শ্রমিকদের রেগার বরাদ্দ সংকুচিত করেছে। সরকারের কাছে দাবি করেও শ্রমিকদের ন্যায্য প্রাপ্তি মিলছে না। ত্রিপুরা রাজ্যের গ্রাম পাহাড়ে এলাকার কাজ বন্ধ হওয়ার পথে। কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি চলছে। রেগার কাজের নামে তারা দলবাজি করে শ্রমিকদের অর্থ দিয়ে জনপ্রতিনিধিরা অট্টালিকা তৈরি করছে। তাদের ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স বাড়ছে। আর শ্রমিকদের মজুরির জন্য রাস্তায় নামতে হচ্ছে। তারা যেভাবে সরকারে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগের প্রতিশ্রুতি গুলি পালন করে নি সেভাবে তারা নয়া আইন কার্যকর করে শ্রমিকদের অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। তাই আগামী ৩০ জানুয়ারি সর্বত্র কংগ্রেসের পক্ষ থেকে গণবস্থানের আয়োজন করা হবে। রাজ্যে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেলা ভিত্তিক জেলা শাসকের কাছে মন রেগা পুনঃ বহালের দাবিতে ডেপুটেশন প্রদান করা হবে। পাশাপাশি আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি মধ্যে রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে এবং লোক ভবন ঘেরাও করা হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দেশে দ্রব্যমূল্য গগনচুম্বি। সরকারের কোন হেলদোল নেই। কিন্তু সরকারের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময় দ্রব্যমূল্য হ্রাস করা, দেশের কালো টাকা বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনা সহ একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার। আরো বলেন সরকারের এমন সিদ্ধান্তের কারণে দেশে গরিবের লাইন আরো বাড়বে। আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য নেতৃত্ব।

