স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৮ জানুয়ারি : টিটিএএডিসি নির্বাচনের আগে বিজেপির অন্যতম এলার্জি হয়ে উঠেছে তিপরা মথা। জনজাতি এলাকায় যাওয়া মাত্রই মন্ত্রী বিধায়কদের মুখ থেকে ঝরছে তিপরা মথার আকাশ সমান দুর্নীতি এবং অসংবিধানিক কার্যকলাপ সহ গুন্ডামির অভিযোগ। পাল্টা এক ইঞ্চি জমি ছাড়ছে না মথা। সমালোচনা করে বিজেপির মন্ত্রী বিধায়কদের কাঠগড়ায় তুলছেন। শনিবার জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা দলীয় কর্মসূচিতে দাবি করেছিলেন জানুয়ারি মাসের মধ্যেই তিপরা মথার সকলে ভারতীয় জনতা পার্টিতে চলে আসবে। মথার বিধায়ক ও এম ডি সি সহ সমস্ত কার্যকর্তারা নাকি মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
এ বিষয় নিয়ে বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মাকে সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার ভিত্তিহীন কথাবার্তা তিনি শুনতে চান না। মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা এবং সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্যকে মঞ্চে বসিয়ে যোগদান শিবিরে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা দাবি করেছিলেন বয়লার মুরগির মতো নাকি ছিঁড়ে ফেলা হবে তিপরা মথাকে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন উনার সামনে দাঁড়িয়ে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা যে অসংবিধানিক কথা বলেছেন তার জন্য কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে? এটা কি আইনের শাসন বলা যায় কিনা মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তোলেন প্রাক্তন জঙ্গি নেতা তথা বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা? ভারতীয় জনতা পার্টি প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা হেজামারায় গিয়ে বলেছেন, বিজেপি এমন আক্রমণ করবে ত্রিপুরা রাজ্যে তিপরা মথার কোন কর্মী থাকবে না। এভাবে অসংবিধানিক কথা বলে কারা রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করছে প্রশ্ন তোলেন রঞ্জিত দেববর্মা? একইসঙ্গে হেজামারায় বিজেপি অফিস নিয়ে উস্কে দিলেন তিনি।
তিনি বলেন, পূর্ত দপ্তরের একুয়ার করা জমিতে বিজেপি দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করছে। মহকুমা শাসকের কাছে এর জন্য চিঠি দিতে বলা হয়েছে দলের কর্মীদের। এটা আগে তহশীল দিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিজেপি তো ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মানুষের বাড়িঘর ও ব্যবসায়ী স্থান ভেঙ্গে দিচ্ছে সরকারি জমির নাম করে। কিন্তু এবার তারা নিজেরাই সরকারি জমিতে দলীয় কার্যালয় তৈরি করছে। এটা এক প্রকার ভাবে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারেন বলে দাবি করেন রঞ্জিত দেববর্মা। মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার কথার ঠাট্টা করে তিনি বলেন, বিকাশ দেববর্মা তো বলেছেন এডিসি নির্বাচনে ২৮ টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৩০ টি আসন পাবে! কোন বিদ্যালয়ে তিনি পড়াশোনা করেছেন সেটা জানেন না বলে জানান বিধায়ক।

