স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১২ জানুয়ারি :গোমতি জেলার করবুক মহকুমার অন্তর্গত তীর্থমুখ এলাকাটি উত্তর-পূর্ব ভারতের হিন্দু সনাতনীদের নিকট একটি অন্যতম পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিত। গোমতীর উৎসস্থলে তথা তীর্থমুখে পিতৃ পুরুষের উদ্দেশ্যে পিন্ডদান, তর্পণ ও পূর্ণ্যস্নানের উদ্দেশ্যে বছরের বিভিন্ন সময় পূন্যার্থীরা তীর্থমুখে ছুটে আসে। প্রতি বছর মকড় সংক্রান্তির পূর্ণলগ্নে এখানে দু’দিনব্যাপী মেলা বসে। রাজন্য আমল থেকে এই মেলাটি চলে আসছে।
রাজ্যের জনজাতিদের অন্যতম প্রধান মেলা বলা চলে এটিকে। যে কারণে প্রতি বছর রাজ্য সরকারের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে এখানে জাঁকজমকপূর্ণ মেলার আয়োজন করা হয়। দুইদিন ব্যাপী মেলাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্য থেকে জনজাতিরা এখানে ভিড় জমায়। এই বছরও আগামী ১৩ ও ১৪ই জানুয়ারি দুই দিনব্যাপী তীর্থমুখের পৌষ সংক্রান্তি মেলার জন্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে।
মেলা কমিটির কনভেনার তথা করবুক মহকুমা শাসক শ্যামজয় জমাতিয়া জানান, মেলায় আগত পূর্ণার্থীদের যাতে খোলা আকাশের নিচে রাত্রি কাটাতে না হয় তার জন্য অস্থায়ী যাত্রী শেডের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে পূর্নার্থীদের সুবিধার্থে পানীয় জল ও শৌচালয়ের সুব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলায় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা প্রদানের জন্য আরক্ষা প্রশাসন সব রকমের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। প্রায় দেড় হাজার টি এস আর পুলিশ জওয়ান গোটা এলাকায় মোতায়ন করা হবে। ভিড়ের উপর নজরদারি রাখার জন্য মেলা প্রাঙ্গণসহ রাস্তায় বারোটি ওয়াচ টাওয়ার করা হয়েছে। সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারি রাখা হবে। যতনবাড়ি থেকে তীর্থমুখ এবং মন্দিরঘাট থেকে তীর্থমুখ পর্যন্ত রাস্তায় নজরদারি রাখার জন্য পুলিশের নাকা পয়েন্ট ও চেক পোস্ট বসানো হয়েছে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ট্রাফিক পুলিশ মোতায়ন করা হবে। গোমতি নদীর উৎস স্থলে পূর্ণ স্নান করতে আসা পূর্ণার্থীদের যাতে জলের ভিতরে কোনরকম সমস্যা না হয় তার জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনীর একটি টিম মোতায়েন করা থাকবে। আগামী মঙ্গলবার বিকালে দুই দিনব্যপী ঐতিহ্যবাহী মকর সংক্রান্তি মেলার শুভ উদ্বোধন করা হবে। তবে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই দূর-দূরান্তের পূর্ণার্থীরা মেলা প্রাঙ্গনে আসতে শুরু করে দিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দোকানিরা পসরা সাজাতে শুরু করে দিয়েছে। এ বছর প্রায় সাড়ে তিনশ দোকানীর মধ্যে ভিটি বন্টন করা হয়েছে বলে মেলা কমিটির পক্ষ থেকে জানা যায়।
বিদ্যুৎ নিগমের পক্ষ থেকে মেলা প্রাঙ্গণসহ রাস্তাঘাট বাহারি আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে। ভারত বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় মেলাটি অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রতিবছর বেশ ভালো সংখ্যায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এ মেলায় ভিড় জমায়। বাংলাদেশী পুর্ন্যার্থীদের আগমনের ফলে মেলায় ব্যবসা-বাণিজ্য বেশ ভালো হয়। কিন্তু এবছর কোন অবস্থাতেই যাতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সীমান্ত ডিঙিয়ে এ পারে আসতে না পারে তার জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানদের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য গোমতী জেলা শাসকের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়। একটা সময় রাজ্যে উগ্রবাদী কার্যকলাপের ফলে প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত এই তীর্থমুখের পৌষ সংক্রান্তি মেলায় পুণ্যার্থীরা আসতে ভয় পেতো। তখন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পৌষ সংক্রান্তি মেলার সূচনা হয়। যার ফলে বর্তমানে মকর সংক্রান্তিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মেলা বসলেও গোমতীর উৎস স্থল তথা তীর্থমুখের মকর সংক্রান্তি মেলায় ধর্মীয় ভাবাবেগের টানে লক্ষাধিক পূর্ণ্যার্থী প্রতিবছর সমবেত হয়। প্রতিবছরের মতো এবছরও লক্ষাধিক পূন্যার্থীর পদচারনের প্রহর গুনছে তীর্থমুখের পূর্ণভূমি। রাজ্য ও বহিঃরাজ্য থেকে আগত লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর কোলাহলে মেতে উঠবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম পূর্ণ্যস্থান তীর্থমুখ।

