স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৯ জানুয়ারি : গত কয়েক বছর ধরে একই সমস্যায় জর্জরিত জনজাতি কল্যাণ দপ্তর। দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা ব্যস্ত নিজের পকেট ভারি করতে আর ভিআইপি গাড়ি নিয়ে ঘুরা ঘুরিতে। অসহায় পড়ুয়ারা স্কলারশিপের জন্য মাসের পর মাস দপ্তরের দরজায় দরজায় ঘুরছে। বিগত বছর জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের যে হাল, এই বছরও একই হাল। বিগত বছরের ন্যায় এই বছরও বহু জনজাতি পড়ুয়া এখনো স্কলারশিপের টাকা পায় নি। যার কারনে তাদের পঠনপাঠনে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিপূর্বে এই পড়ুয়ারা একাধিকবার দপ্তরের মন্ত্রী ও আধিকারিকের দ্বারস্থ হয়েছে। সকলের কাছ থেকে মিলেছে আশ্বাস।
কিন্তু দপ্তরের মন্ত্রী আর আধিকারিকদের কথার সাথে কোন মিল নেই কাজের। দপ্তরের আধিকারিক পড়ুয়াদের বলছেন স্কলারশিপ দেওয়ার জন্য নেই প্রয়োজনীয় অর্থ। অপরদিকে দপ্তরের মন্ত্রী পড়ুয়াদের আশ্বাস দিয়েছেন স্কলারশিপের টাকা চলে এসেছে সহসাই দিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তারপরও মিলছে না স্কলারশিপের টাকা। বাধ্য হয়ে স্কলারশিপ বঞ্চিত পড়ুয়ারা এইদিন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরে জড়ো হয়। দপ্তরের অতিরিক্ত অধিকর্তার সাথে তারা কথা বলতে গেলে তিনি পড়ুয়াদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। এতেই উত্তেজিত হয়ে পরে ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা। ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে দপ্তরের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। তখন দপ্তরের এক আধিকারিক পুনরায় পড়ুয়াদের সাথে বাক যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়েন। যার জেরে একটা সময় পড়ুয়াদের সাথে এই আধিকারিকের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাওয়ার পর খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।
বাধ্য হয়ে পুলিশ কাটার দিয়ে তালা কেটে দপ্তরে প্রবেশ করে। পুলিশ জনজাতি কল্যাণ দপ্তরে প্রবেশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে পড়ুয়ারা স্লোগান দিতে থাকে নো স্কলারশিপ নো রেস্ট। অর্থাৎ তারা স্কলারশিপ না পাওয়া পর্যন্ত বিশ্রাম করবে না। এমনকি তারা দপ্তরও ছাড়বে না। এইদিকে দপ্তরের আধিকারিকরা পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দপ্তরের মন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করেন। দপ্তরের আধিকারিকের ফোন পাওয়ার পর নিজের সুর পাল্টে ফেলেন দপ্তরের মন্ত্রী। পড়ুয়ারা দপ্তরের মন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করলে মন্ত্রী বিকাশ পড়ুয়াদের জানিয়েদেন পড়ুয়ারা নিজেদের ভুলের কারনে স্কলারশিপ পাচ্ছে না। এতে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে যায় পড়ুয়ারা। পড়ুয়ারা সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানায় তারা স্কলারশিপ না পাওয়ার পিছনে দপ্তরের মন্ত্রীর হাত রয়েছে। মন্ত্রী নিজে বলেছে দপ্তরের আধিকারিকরা টাকা খায়।
ক্ষুব্ধ পড়ুয়াদের বক্তব্য তারা শিক্ষিত। তাদেরও ইচ্ছা নাই একটি দপ্তরে এসে হাঙ্গামা করার। কিন্তু তাদেরকে উত্তেজিত হতে বাধ্য করা হচ্ছে। তাদের দাবি তাদের স্কলারশিপের টাকা দিয়ে দেওয়া হোক। তাহলে তারা কোন ঝামেলা করবে না। তারা দপ্তর থেকে বেরিয়ে যাবে। তবে দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার একেক সময়ে এক এক বক্তব্য থাকে পড়ুয়াদের মধ্যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। পড়ুয়াদের সন্দেহ তারা স্কলারশিপ না পাওয়ার পিছনে শুধুমাত্র দপ্তরের আধিকারিক নয় দপ্তরের মন্ত্রীরও হাত রয়েছে। এখন দেখার দপ্তর কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

