Thursday, February 5, 2026
বাড়িরাজ্যপুলিশের চক্রান্তে চুরাইবাড়িতে ফের অবরোধ করল লরি চালকরা

পুলিশের চক্রান্তে চুরাইবাড়িতে ফের অবরোধ করল লরি চালকরা

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৭ ডিসেম্বর :  চুড়াইবাড়ি থানার চরম গাফিলতি! স্কেনার মেশিনের দোহাই দিয়ে বাঁকা পথে হাঁটতে লরি চালকদের ইচ্ছাকৃতভাবে রাস্তায় নামিয়েছে পুলিশ। সৃষ্টি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। রবিবার দুপুর থেকে ত্রিপুরার উত্তর জেলার চুরাইবাড়ি সেইলটেক্স সংলগ্ন এলাকায় পণ্যবাহী লরি চালকরা জাতীয় সড়ক আটে অবরোধ করে তীব্র প্রতিবাদ জানান। যান চালকদের অভিযোগ, গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তারা ত্রিপুরা থেকে বহিঃ রাজ্যে যাওয়ার পথে চুরাইবাড়ি এলাকায় আটকে রয়েছেন।

এর মূল কারণ, ত্রিপুরা থেকে বিভিন্ন গাড়িতে করে গাঁজা পাচারের আশঙ্কায় চুরাইবাড়ি থানার পুলিশ প্রত্যেকটি গাড়ি কঠোরভাবে তল্লাশি করছে এবং পরীক্ষা না করে কোনো গাড়ি ছাড়া হচ্ছে না। চালকরা বলেন, চুরাইবাড়ি থানার সামনে থাকা নাকা পয়েন্টে জায়গার অভাব, পর্যাপ্ত কর্মীর সংকট, আধুনিক স্ক্যানার মেশিন নেই এবং পরিকাঠামোর দুর্বলতার কারণে দেখিয়ে তল্লাশি প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীর গতিতে করছে চুড়াইবাড়ি থানার পুলিশ। ফলে দৈনিক ১ থেকে ২ টি গাড়ি চুরাইবাড়ি গেট অতিক্রম করতে পারছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় আটকে থাকায় অনেক চালকের অভিযোগ, খাবার ও পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রাকৃতিক কাজ করার ক্ষেত্রেও চরম সমস্যা তৈরি হয়েছে। রেশন সামগ্রী ফুরিয়ে গেছে। রাতে গাড়ির ডিজেল, ব্যাটারি ও টায়ার চুরির আশঙ্কা বেড়েছে।

চালকদের অভিযোগ, সপ্তাহের পর সপ্তাহ গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে গাড়ির কিস্তি ও ইনস্টলমেন্ট পরিশোধ করাও অসম্ভব হয়ে পড়ছে। যান চালকরা আরও বলেন, বিজেপি সরকার দেশের বিভিন্ন রাজ্যের আন্তঃরাজ্য সীমান্তে স্ক্যানার মেশিন বসালেও ত্রিপুরা-অসম সীমান্তের চুরাইবাড়ি এলাকায় এখনও সেই আধুনিক ব্যবস্থা চালু করা হয়নি। বহুদিন ধরেই স্ক্যানার বসানোর দাবি জানালেও সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের। আর যদি স্ক্যানার মেশিন বসানো হতো তাহলে স্বল্প সময়ে গাড়ি তল্লাশি করে গাড়ি গুলি ছাড়‌ পেত। চালকরা দাবি করেন, কিছু অসাধু চালকের জন্য অধিকাংশ নিরীহ চালকদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

চালকদের দাবি, বর্তমানে চুরাইবাড়ি এলাকায় প্রায় সাত শতাধিক গাড়ির দীর্ঘ লাইন জমে রয়েছে। সেই সঙ্গে আটকা পড়ে রয়েছে বহু যাত্রীবাহী যানও গাড়িও। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় চুরাইবাড়ি থানার পুলিশ। পুলিশ বিক্ষুব্ধ চালকদের সঙ্গে কথা বললেও এখনও পর্যন্ত তারা অবরোধ প্রত্যাহারে অনড় রয়েছেন। এদিকে কান পাতলে শোনা যায় গত কয়েক দিনের ব্যবধানে আসাম পুলিশের হাতে ত্রিপুরা থেকে পাচার হওয়া গাঁজা, ব্রাউন সুগার, পিস্তল সহ বিভিন্ন বেআইনি সামগ্রী আটক হয়েছে। প্রশ্ন হল উত্তর ত্রিপুরা জেলার অধিকাংশ থানা জাতীয় সড়কের পাশে হওয়ার পরেও কিভাবে পুলিশ ম্যানেজ করা হয়েছে লরি চালকদের পক্ষে। সূত্রে খবর, চোরাইবাড়ি থানা সহ একাধিক থানায় মোটা অংক জমা পড়ার পর পুলিশ ম্যানেজ হয়েছে। এগুলি থানার বড়বাবু থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত জানে। ত্রিপুরা পুলিশের এমন কীর্তি কান্ড যখন সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম দখল করছে, তখন পুলিশ লরি চালকদের খেপিয়ে তুলতে দৈনিক এক থেকে দুইটি গাড়ি যেতে দিচ্ছে। এর পেছনে কতিপয় পুলিশ বাবুদের মনে আঘাত লেগেছে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য