স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৫ ডিসেম্বর : মধুপুর থানার পুলিশকে ঘুমে রেখে মহকুমা প্রশাসন এবং জেলা আরক্ষা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত পাচারকারীর গোডাউন সিল করে দিল বৃহস্পতিবার রাতে। বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে মালামাল প্রস্তুত রাখা হয় এই গোডাউনে বলে অভিযোগ। অবশেষে গোডাউনে হানা দেয় মহকুমা প্রশাসন এবং জেলা আরক্ষা প্রশাসন। এদিন বিশালগড় মহকুমা শাসক এবং সিপাহীজলা জেলা পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মার কাছে অগ্রিম খবর ছিল, মধুপুর বাজারের এক বেসরকারি ব্যাংক সংলগ্ন এক গোডাউনের মধ্যে বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে অবৈধ মালামাল মজুদ রয়েছে।
সেই গোপন খবরের ভিত্তিতে সিপাহীজলা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বিশালগড় মহকুমা ডেপুটি কালেক্টর ম্যাজিস্ট্রেট প্রসেনজিৎ দাস, জেলা সেইল টেক্স এন্ড ফোর্সমেন্টের আধিকারিকরা মধুপুর থানার পুলিশকে না জানিয়ে আচমকা হানা দেয় গোডাউনে। পরে মধুপুর থানার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে আসে। মধুপুর থানার পুলিশ সেখানে এসে দেখতে পায় ডেপুটি কালেক্টর ম্যাজিস্ট্রেট সহ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং বিশাল পুলিশ ও টিএসআর। জেলা পুলিশ আধিকারিককে দেখতে পেয়ে মধুপুর থানার বাবুরা একের পর এক ছুটে আসেন। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সহ বিশালগড় মহকুমার ডেপুটি কালেক্টর ম্যাজিস্ট্রেট প্রসেনজিৎ দাস খোঁজ নিয়ে জানতে পারে এই গোডাউনের মালিক রাকেশ দেবনাথ।
পরে বাজার কমিটির অন্য একজন ছুটে এসে প্রশাসনের আধিকারিকদের জানিয়েছেন এই গোডাউন টি অপার এক ব্যক্তির কাছ থেকে ভাড়া হিসাবে নিয়েছেন রাকেশ দেবনাথ। পরে গোডাউনের মালিক রাকেশ দেবনাথ চাবি নিয়ে এসে গোডাউনের তালা খুলতেই জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ডেপুটি কালেক্টর ম্যাজিস্ট্রেট প্রসেনজিৎ দাস গোডাউনের ভেতরে প্রবেশ করতেই তাদের চোখ কপালে উঠে যায়। জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং বিশালগড় মহকুমার ডেপুটি কালেক্টর ম্যাজিস্ট্রেট প্রসেনজিৎ দাস গোডাউনের ভেতরে দেখতে পান প্রচুর পরিমাণে চালের বস্তা, প্রচুর পরিমাণে কসমেটিক সামগ্রী যেমন সুগন্ধি পাউডার, সুগন্ধি তেল মজুদ রয়েছে। যদিও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ডেপুটি কালেক্টর ম্যাজিস্ট্রেটের জবাবে গোডাউনের মালিক রাকেশ দেবনাথ গোডাউনে এই ধরনের মালামাল মজুদ রাখার কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত গোডাউনটি সিল করেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। শুক্রবার সকালের মধ্যে বিশালগড় মহকুমা শাসক অফিসে এই গোডাউনের বিষয়ে সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে দেখানোর জন্য সময় বেঁধে দেন। এখন দেখার বিষয় তদন্তে কি বের হয়ে আসে।

