স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২২ নভেম্বর : দীপান্বিতার মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে আরো এক ঘটনা সমাজকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কতিপয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দায়িত্ব জ্ঞানহীনতা। গুরুতর আহত ছাত্রকে হাসপাতাল না নিয়ে বাড়ির লোককে খবর দিলেন তথাকথিত দায়িত্ববান শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এই ঘটনা সাব্রুম মহকুমা থাইবুং গ্রাম পঞ্চায়েতের হরিনা উচ্চ বিদ্যালয়ে। শনিবার দুপুরে সাব্রুম মহকুমা থাইবুং গ্রাম পঞ্চায়েতের হরিনা উচ্চ বিদ্যালয় ঘটল বিপত্তি। এক ছাত্রের পা দিয়ে ঢুকে যায় গাছের ডাল। আহত ছাত্রের নাম রোহিত শীল। বয়স ১৩ বছর। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নজরে আসার পর সঙ্গে সঙ্গে দমকল কর্মীদের খবর দেওয়া হয়।
দম্পল কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছে আহত ছাত্রকে সাব্রুম মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসে। কর্তব্যরত চিকিৎসক অস্ত্র প্রচার করে গাছের ডাল পা থেকে বের করে। ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্ব প্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার মৃণাল কান্তি দাস অভিযোগ করেন, একজন শিক্ষক এর গাড়ী থাকা সত্বেও জরুরি ভাবে হাসপাতালে না এনে দমকল কর্মীদের জন্য অপেক্ষা করেছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দায়িত্ব বোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রোহিত শীলের পিতা কৃষ্ণ শীলও একই অভিযোগ করেন। স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রের বাবা জানান, দুই ছাত্র গিয়ে উনাকে জানান ওনার ছেলে আহত হয়েছে। তারপর তিনি বিদ্যালয়ে এসে দেখেন অ্যাম্বুলেন্স এর জন্য অপেক্ষা করছেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। তারপর দীর্ঘক্ষণ এম্বুলেন্স না আসায় দমকল কর্মীদের সহযোগিতা নিয়ে ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। বিদ্যালয়ে বহু শিক্ষক শিক্ষিকার বাইক, স্কুটি এবং গাড়ি থাকার সত্বেও তড়িঘড়ি হাসপাতালে আনার জন্য কোন উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ ছাত্রের বাবার। শিক্ষক শিক্ষিকাদের এমন অমানবিক আচরণের জন্য দমকল কর্মীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষকের গাড়ি থাকা সত্ত্বেও আনা হয়নি আহত ছাত্রকে মহাকুমা হাসপাতালে। এদিকে শিক্ষক শিক্ষিকাদের এমন অমানবিক আচরণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে তারা কি সত্যিই সমাজের মেরুদন্ড? মা-বাবার পর তাদের স্থান। অথচ তারা কতটা মনুষ্যত্ব জ্ঞান হারালে এতটা অমানবিক হতে পারে সেটাই আঙ্গুল তুলছে সাধারণ মানুষ। একাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকার ধারণা সরকার বেতন দিচ্ছে শুধু ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ানোর জন্য। তারপর ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি তাদের আর কোন দায়িত্ব নেই। এর মধ্যে সম্প্রতি ক্ষুদিরাম ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী দীপান্বিতা পালের মৃত্যুর ঘটনাও আরেকটি চাক্ষুষ প্রমাণ। যা সমাজকে ভাবিয়ে তোলো এমন ঘটনা আর কয়টি ঘটলে সম্বিত ফিরবে তাদের?

