স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২২ অক্টোবর : ভয় দেখিয়ে বিজেপির কার্যকর্তাদের দাবিয়ে রাখা যাবে না। ২০১৮ সালে সিপিএম পারেনি বিজেপি কে রুখতে। হিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে শান্তিপূর্ণ সহবস্থানে সমৃদ্ধ ত্রিপুরা গড়তে হবে। বুধবার টাকারজলায় বিজেপির যোগদান সভায় কথাগুলো বলেন মুখ্যমন্ত্রী ডা: মানিক সাহা। এদিন বিজেপির টাকারজলা মন্ডলের নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় বিভিন্ন দল ছেড়ে ৬৯০ জন ভোটার বিজেপিতে যোগদান করেন। জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপির প্রদেশ সভাপতি তথা সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, বিজেপির প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, জেলা সভাপতি বিপ্লব চক্রবর্তী, মন্ডল সভাপতি নির্মল দেববর্মা প্রমুখ। সমাবেশে আসার পথে বেলবাড়ি এলাকায় আক্রমনের মুখে পড়ে বিজেপির সমর্থকরা। ইট পাটকেলের আঘাতে আহত হয় কয়েকজন মহিলা কার্যকর্তা। ভেঙে দেয়া হয় গাড়ির কাচ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এরপর মন্ডল অফিস উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী ডা: মানিক সাহা। তিনি বলেন দীর্ঘদিন ধরে জনজাতিদের বিভ্রান্ত করে রাজনীতি করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। কিন্তু বিজেপি চায় জনজাতিদের প্রকৃত উন্নয়ন এবং জনজাতি এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়ন। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকলেই এই উন্নয়ন সম্ভব। ভয় দেখিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে উন্নয়ন স্তব্ধ করা যাবেনা। বিজেপির কার্যকর্তারা কাউকে ভয় পায়না।
এই রাজ্যের মানুষ সিপিএম কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনে খুন সন্ত্রাস অগ্নি সংযোগ ইত্যাদি দেখেছে। বিজেপি সন্ত্রাসের রাজনীতি এবং বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। বিজেপির মূল মন্ত্র সবকা সাত সবকা বিকাশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মার্গ দর্শনে এ রাজ্যের জনজাতিদের বিকাশে আন্তরিকভাবে কাজ করতে সরকার। রাজ পরিবার পেয়েছে যোগ্য সম্মান। মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিকের জন্মদিনে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কামান চৌমুহনীতে জিরো মাইলস্টোন পুনরুদ্ধার করে সেখানে মহারাজার মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। মহারাজার নামে এয়ারপোর্টের নামকরণ হয়েছে। রাজ্যের বারটি ব্লক কে বিশেষ পিছিয়ে পড়া ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সার্বিক উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন জনজাতিদের উন্নয়ন ছাড়া রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। ব্রু রিয়াং সমস্যা সমাধান কেউ করতে পারেনি। কিন্তু বিজেপি সরকার এই সমস্যার সমাধান করেছেন। জনজাতি ছাত্রছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের বিকাশ, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাজেট বৃদ্ধি করা হয়েছে।
উন্নয়ন বাস্তবায়নের জন্য দরকার শান্তি এবং সম্প্রীতি। জাতি জনজাতির সম্মিলিত প্রয়াসে ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। কিন্তু গায়ের জোরে উন্নয়ন স্তব্ধ করার চেষ্টা হলে আইনের পথে প্রতিকার করা হবে। বিজেপির প্রদেশ সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য বলেন ২০১৮ সালে বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার প্রতিষ্ঠার পর এই রাজ্যের জনজাতিদের প্রকৃত উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। এর আগে সিপিএমের জামানায় বিভাজনের রাজনীতির কারণে অশান্তির বাতাবরণ ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনজাতিদের সার্বিক উন্নয়ন এবং জনজাতিদের সম্মান প্রদানে আন্তরিক। জনজাতি মা-বোনদের হাতের তৈরি রিস জিও ট্যাগ পেয়েছে। জনজাতিদের সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরছে প্রধানমন্ত্রী। আজকের এই সভায় নারী শক্তির উপস্থিতি জানান দিচ্ছে কোন অশুভ শক্তি বিজেপিকে রুখতে পারবে না। মুখ্যমন্ত্রীর এক ত্রিপুরার শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়ার সংকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতি জনজাতি সবাই মিলে মিশে কাজ করতে হবে। মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন এক সময় টাকারজলা ছিল বামফ্রন্টের ঘাঁটি। আজ সেই বাম দুর্গ খান খান হয়ে গিয়েছে। দীর্ঘ ২৫ বছর জনজাতিদের জন্য কোন কাজ করেনি বলেই আজ সিপিএম পায়ের তলায় মাটি হারিয়েছে। শুধু রাজনীতি করলে মানুষ ক্ষমা করবে না। মানুষের আশীর্বাদ পেতে হলে কাজ করতে হবে। আর এই কাজ করে দেখাচ্ছে বিজেপির সরকার। যারা বিভ্রান্ত করে উন্নয়ন স্তব্ধ করতে চায় তাদের মানুষ ক্ষমা করবে না। এদিনের সভায় বিভিন্ন দল থেকে ৬৯০ জন ভোটার বিজেপিতে যোগদান করেন। তাদের বরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী ডা: মানিক সাহা ।

