স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৩ অক্টোবর : সরকারি হাসপাতালে পরিষেবা নিতে গেলে মুখ বুজে পরিষেবা নিতে হবে। এতে রোগীর জীবন সংকটে করলেও কোন কিছুই যায় আসে না হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের। কেউ যদি প্রতিবাদ করে তাহলে রোগীকে সরাসরি অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করে দেওয়া হবে। সুশাসন জামানায় এমনই এক হুমকির মুখোমুখি হলেন আইজিএম হাসপাতালের এক রোগীর পরিবার। হাসপাতালের পুরুষ বিভাগের মেডিসিন ওয়ার্ডের ইউনিট টু-তে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের বিরুদ্ধে উঠেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। সকলের জানা হাসপাতালে সংকটাপন্ন রোগীদের অক্সিজেন দেওয়া হয়।
কিন্তু এই বিভাগের মধ্যে রোগীদের নোংরা জল দিয়ে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। যার রোগীদের বাঁচানোর পরিবর্তে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে আরো বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এমনটাই অভিযোগ হাসপাতালে রোগী নিয়ে আসা রঞ্জন ধরের। গত ১১ অক্টোবর উনার জেঠু নিখিল ধরকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। উনার রোগীর কাশির কারণে শ্বাসকষ্টের সমস্যা হয়েছিল। চিকিৎসক অক্সিজেন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন স্বাস্থ্য কর্মীদের। স্বাস্থ্যকর্মীরা অক্সিজেন দেওয়ার পর লক্ষ্য করেন, অক্সিজেন ফিল্টারেশনের বেহাল দশা। নোংরা জল দিয়ে দেওয়া হচ্ছে অক্সিজেন। এই নোংরা গুলি শরীরের লাঞ্চের মধ্যে গিয়ে জমাট বাধার সম্ভাবনা রয়েছে। তারপর তিনি উনার রোগীকে পাইপ পরিস্কার করে অক্সিজেন দিয়ে বিপদ থেকে রক্ষা করেন। তিনি একই দৃশ্য লক্ষ্য করলেন সোমবার। এদিন আরো একজন রোগী হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা নিয়ে আসার পর নোংরা জল দিয়ে চলছিল অক্সিজেন।
তখন তিনি বিষয়টি স্বাস্থ্যকর্মী এবং কর্তব্যরত চিকিৎসককে জানান। চিকিৎসক সাথে সাথে উনাকে বলেন, কিছুক্ষণ পর পর এভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে অক্সিজেন দেওয়া কঠিন কাজ। তারপর তিনি চিকিৎসককে জানান, স্যার আপনারা এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখুন। নয়তো রোগীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় কিছুক্ষণ পরেই রঞ্জন বাবুর হাতে ধরিয়ে দেওয়া হলো জিবি হাসপাতালে রোগী রেফার করার কাগজ। সাথে সাথে তিনি স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চান কি কারনে উনার রোগীকে রেফার করা হয়েছে। উনার রোগী সুস্থ রয়েছেন। এর চাইতে অনেক সংকটজনক রোগীকে যদি পরিষেবা দেওয়া যায় এই ওয়ার্ডে তাহলে কেন উনার রোগীকে রেফার করা হলো? কিন্তু কোন জবাব না দিয়ে কাগজের স্বাক্ষর করে নেন হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মীরা।
পরে বুঝতে পারেন উনার প্রতিবাদ কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনটাই অভিযোগ রঞ্জন বাবুর। রঞ্জন বাবু দাবি করেন করোনা চলাকালীন সময়ে তিনি অক্সিজেন ডিভাইস তৈরি করেছিলেন। তাই অক্সিজেন মেশিন সম্পর্কে ওনার অভিজ্ঞতা আছে। তাই তিনি ভুল শুধরে দিতে চেয়েছিলেন স্বাস্থ্য কর্মীদের। যা উনার কাল হয়ে দাঁড়ালো। তিনি হাসপাতাল থেকে যেতে চাইছেন না। কারণ উনার রোগীর স্ত্রী, সন্তান কেউ নেই। জিবি হাসপাতালে রোগী নিলে গাড়ি ভাড়া সহ অন্যান্য খরচ বাড়বে। তাই চাইছেন জিবি হাসপাতালের পরিবর্তে আইজিএম হাসপাতালে যাতে পরিষেবা নিতে পারে উনার রোগী। কিন্তু যে ঘটনা প্রকাশ্যে আসলো সেটা অত্যন্ত চিন্তার। প্রতিবাদ করলেই রেফার করে দেওয়া হবে হাসপাতাল থেকে। এটা রোগী এবং রোগীদের পরিবারের জন্য এক প্রকার ভাবে হুমকি। তবে শতাধিক বছর পুরনো এই হাসপাতাল মানুষের ভরসা। কিন্তু হাসপাতালের ভেতর মাতব্বর কিছু ব্যক্তি কারণে অসহায় রোগী এবং রোগীর পরিবার।

