স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৭ অক্টোবর :উৎসব ভরা মরশুমে সাধারণ মানুষের কথা ভুলে গেছেন একাংশ মাথা ভারী সরকারি কর্মচারী। ৩ শতাংশ মহার্ঘ ভাতার ঠেলায় পুজোর আনন্দ কাটিয়ে উঠতে পারছেন না তারা। আর পানীয় জলের অভাবে আমজনতার দুর্গাপূজা এবং লক্ষী পূজার আনন্দ যে মাটি করে দিল এর খবর নেই বিকাশ ত্রিপুরার মাথা ভারী প্রশাসনিক আধিকারিকদের। ঘটনা বিকাশ ত্রিপুরার কৈলাশহর গোলকপুর এডিসি ভিলেজের এক নং ওয়ার্ড এলাকায় এবং সরোজিনী গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁচ নং ওয়ার্ডের হালাইছড়া গ্রামে।
পানীয় জল ও স্বাস্থ্য বিধান দপ্তরের আধিকারিকদের খামখেয়ালিপনা এবং কান্ডজ্ঞান হীনতার জন্য দশ থেকে বারো দিন ধরে দুইটি গ্রামে পানীয় জল নেই! গ্রামে পানীয় জল সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় দুইটি গ্রামে পানীয়জলের তীব্র হাহাকার শুরু হয়েছে। গ্রামবাসীরা জানায়, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের কয়েকবার জানানোর পরও দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা পানীয় জলের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাস্তা অবরোধের খবর পেয়ে কৈলাসহর থানার বিশাল পুলিশ ছুটে যায়। রাস্তা অবরোধের ফলে পথচারীরা আটকে পড়েছেন।
অবরোধকারী গ্রামবাসীরা জানান যে, গোলকপুর এডিসি ভিলেজের এক নং ওয়ার্ড এলাকায় এবং সরোজিনী গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁচ নং ওয়ার্ডের হালাইছড়া গ্রামে গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে পানীয়জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে রয়েছে। গোলকপুর এডিসি ভিলেজের আয়রন রিমুভেল প্ল্যান্ট থেকে এই দুইটি গ্রামে পানীয়জল সরবরাহ করা হতো। কিন্তু জল সরবরাহের পাইপ ফেঁটে যাওয়ায় বিপত্তি ঘটেছে। গ্রামবাসীরা স্থানীয় পাম্প অপারেটর সহ স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিদের কয়েকবার জানানোর পরও কেউ কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি। গ্রামবাসীরা স্থানীয় পানীয় জল ও স্বাস্থ্য বিধান দপ্তরের আধিকারিকদেরও কয়েকবার জানানোর পরও দপ্তরের আধিকারিকরা কোনো ধরনের কার্যকরী ভুমিকা নেয়নি। দূর্গা পুজো থাকায় অফিস বন্ধ এবং পুজোতে শ্রমিক পাওয়া যায় না তাই, পুজোর পরে জলের পাইপ সারাই করে পানীয়জল সরবরাহ করা হবে বলে দপ্তরের আধিকারিকরা গ্রামবাসীদের জানিয়েছিলেন। অথচ, জরুরি পরিষেবার মধ্যে অন্যতম পানীয় জল ও স্বাস্থ্য বিধান দপ্তর হওয়া স্বত্বেও দপ্তরের আধিকারিকদের খামখেয়ালির জন্য দশ থেকে বারো দিন ধরে দুইটি গ্রামে পানীয়জল সরবরাহ স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়নি। এখন দেখার বিষয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উৎসবের আনন্দ কত দ্রুত শেষ হয়। নাকি ৩ শতাংশ মহার্ঘ ভাতায় দীপাবলি পর্যন্ত চলে তাদের উৎসবের আনন্দ?

