স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৬ সেপ্টেম্বর :আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলেছে সার্বজনীন দুর্গাপূজা। দুই অক্টোবর দশমী। ৪ অক্টোবর মায়ের গমনের মধ্য দিয়ে দশমী পর্ব শেষ হবে। সার্বজনীন দুর্গাপূজা রাজ্য বাসীর যাতে শান্তিপূর্ণভাবে কাটে তার জন্য ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে রাজ্য পুলিশ প্রশাসন। গ্রাম শহরের অতিরিক্ত পুলিশ এবং টি.এস.আর মোতায়েনের উদ্যোগ নিয়েছে। শুক্রবার রাজ্য পুলিশের সদর কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে আসন্ন দুর্গাপূজার নিরাপত্তার বিষয়ে বিস্তারিত জানান রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক অনুরাগ ধ্যানকর।
তিনি বলেন এবছর সারা রাজ্যে ২ হাজার ৯৬৫ টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে। বিগত বছরের তুলনায় এই বছর ১০ শতাংশ পুজো বেড়েছে। দুর্গাপূজার শান্তিপূর্ণভাবে সংগঠিত করতে রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে ৬ হাজার ৫৫০ জন টি.এস.আর মোতায়েন করা হবে। ৩২০ জন অ্যাডিশনাল পুলিশ রাজ্য পুলিশের সদর কার্যালয় থেকে বিভিন্ন জেলায় নিরাপত্তার দায়িত্বে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণে থাকা পুলিশ কর্মীদের দায়িত্বে রাখা হবে। দুর্গাপূজার দায়িত্বে এবছর সর্বমোট ৭ হাজার ৭৫০ জন পুলিশ এবং টি.এস.আর মোতায়েন থাকবে। মোবাইল পেট্রোলিং ভ্যান থাকবে ২৬৫ টি। পূজার দিনগুলিতে স্পর্শ কাতর এলাকাগুলিতে নিরাপত্তার জন্য ৩২০ টি সি.সি.টি.ভি থাকবে। পূজা প্যান্ডেলের বাইরে সিসি ক্যামেরা রাখার জন্য প্রত্যেক পুজো কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২৪১ টি পুলিশ এসিস্ট্যান্ট বুথ বসানো হবে। জনগণের পরিষেবা জন্য ওয়াচ টাওয়ারের ব্যবস্থা করা হবে। এ বছর সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত বিকাল পাঁচটা থেকে রাত একটা পর্যন্ত নোয়েন্টি থাকবে। রাত একটা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া যাত্রীবাহী কোন গাড়ি চলাচল করতে পারবে না। মায়ের গমন অনুষ্ঠানের দিনও কিছু রাস্তায় নো এন্ট্রি থাকবে। নো এন্টির আওতায় বাইরে থাকবে অ্যাম্বুলেন্স এবং বিমান যাত্রীর গাড়ী। সঠিক প্রমাণ পত্র দেখে তারা যাতায়াত করতে পারবে। মায়ের গমনের দিন নো এন্টির রোড ম্যাপ কি হবে সেটা রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।
পূজার দিনগুলিতে কেউ কোন সমস্যায় পড়লে বা নিরাপত্তার অভাববোধ করলে ১১২ হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করতে পারবে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা এই পরিষেবার সাথে নিযুক্ত থাকবে ২৪ ঘন্টা। বিশেষ করে কোন কিছু দেখার পর কারোর যদি কোনরকম সন্দেহ হয় তাহলে এই নম্বরে সহযোগিতা চাইতে পারবে। এবছর পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় ৭৭২টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পুলিশের মহা নির্দেশক আরো জানিয়েছেন, যেহেতু ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী রাজ্য তাই বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে রাজ্য পুলিশের যোগাযোগ রয়েছে। অনুপ্রবেশ এবং অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে পুলিশের সঙ্গে বি.এস.এফ জওয়ানরা যৌথভাবে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের মহা নির্দেশক দশমীর দিনক্ষণ বেধে দেন মায়ের গমন অর্থাৎ ৪ অক্টোবর পর্যন্ত। একই সাথে শব্দ সন্ত্রাস নিয়ে কড়া নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছেন। ৬৫ ডেসিবেল থেকে ৭৫ ডেসিবেলের মধ্যে শব্দের মাত্রা রাখতে পারবে। রাত বারোটার পর কোন জায়গায় সাউন্ড বক্স বাজানো যাবে না। আইন লঙ্ঘন করলে পুজো উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে দেখা গেছে আগরতলা শহরের মধ্যে পুজোর দিনগুলিতে ভিড় বাড়তে। বিভিন্ন মহাকুমা থেকে মানুষ ট্রেনে করে আগরতলা রেল স্টেশনে আসে। তাই এ বছর সরকারি রেল পুলিশ থানার মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ ও টি এস আর কর্মী দেওয়া হয়েছে। যাতে তারা পুজোর দিনগুলিতে রেল স্টেশনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পারে। তিনি আরো জানিয়েছেন এ বছর যানবাহনের পাসের ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারি থাকবে। আয়োজিত এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পুলিশ সুপার নমিত পাঠক, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার ট্রাফিক এসপি কান্তা জাহাঙ্গীর সহ বিভিন্ন পুলিশ আধিকারিক।

