Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্য৮০ -র গণহত্যা তদন্ত চাইল আমরা বাঙালি

৮০ -র গণহত্যা তদন্ত চাইল আমরা বাঙালি

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৮ সেপ্টেম্বর : হাইকোর্টের একজন কর্মরত বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে ১৯৮০-র জুনের গণহত্যায় জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং উগ্রবাদী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঙালীদের পরিবার প্রতি ২ কোটি টাকা, জমি ও নিরাপত্তা দিয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি তুলেছে আমরা বাঙালি দল। সোমবার আমার বাঙালি রাজ্য কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে দলের রাজ্য সম্পাদক গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল বলেন, ১৯৭৮ সালে ৫৬ টি আসন নিয়ে সিপিএম প্রথম ত্রিপুরার ক্ষমতা দখল করে।

৪ টি আসন পায় বিরোধী উপজাতি যুব সমিতি। এই বছরেরই শেষ দিকে রাজ্যে বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিজেপি দলের প্রধান জোট শরিক তিপ্রা মথা দলের সুপ্রিমো প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মন মা বিভু দেবীকে মধ্যমনি করে যুব সমিতির তৈদু সম্মেলন হয়। জানা যায়, ঐ সম্মেলনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে ১৯৪৯ -এর ১৫ই অক্টোবর তথা ত্রিপুরা ভারত বিভক্তের পর থেকে আসা বাঙালীরা বিদেশী। তারা কেউ ত্রিপুরায় থাকতে পারবে না। সিদ্ধান্ত হয় বাজার বয়কট বা বন্ধের। তখন বিজয় রাংখল সহ বর্তমান মথার প্রায় সমস্ত নেতৃবৃন্দ তৈদু সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। ৮০ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারী ছিল পূর্ণ গ্রাস সূর্যগ্রহনের দিন।

এই দিনেই আগরতলায় রাজ্যের প্রথম বাম মুখ্যমন্ত্রী কম: নৃপেন চক্রবর্তীর সঙ্গে আগরতলায় গোপন মিটিং হয়, ৮০ জুনের বাঙালী গণহত্যার প্রধান নায়ক বিজয় রাংখলের। তারপর ৬ই জুন যুব সমিতির বাজার বয়কট আন্দোলন চলাকালীন সময়ে আগরতলার অদূরে লেম্বুছড়ায় একটি সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাঙালী নিধন যজ্ঞ হলেও মুহুর্তে তা ছড়িয়ে পড়ে মান্দাই, টাকারজলা, জম্পুইজলা ইত্যাদি আগরতলা তথা পশ্চিমত্রিপুরা জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। পরবর্তী সময়ে এই বাঙালী গণহত্যা দাবানলের মতো গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকদিনেই মারা যায় হাজার হাজার নিরীহ বাঙালী। শতে শতে বাঙালী মা-বোন ধর্ষণ ও কিডন্যাপের শিকার হয়।

মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই স্বজন ও কোটি কোটি টাকার সম্পদ হারা হয়ে প্রাণভয়ে অসহায় বাঙালীরা নিরাপদ আশ্রয়ে আসার চেষ্টার মধ্যেই স্কুল বা শরনার্থী শিবিরের মতো আশ্রয়কেন্দ্রগুলিতেই উগ্রবাদী আক্রমনে প্রাণ বিসর্জন করে বহু বাঙালী। পরবর্তীকালে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে বাম সরকারের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা লক্ষ্য করে বাঙালীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো বাঙালীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে ধরপাকড় করতে থাকে।

তিনি আরো বলেন, রাজ্যে কংগ্রেস নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ায় এই বিপদের দিনে একমাত্র আমরা বাঙালী দল ছিল বাঙালীদের পাশে। আমরা বাঙালী তখন দাবী তুলে, ৮০ জুনের গণহত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্থদের পূর্ণ ক্ষতি পূরণ ও নিরাপত্তা দিয়ে স্বস্থানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। নৃপেন বাবুর তখন বক্তব্য ছিল, যতদিন রাজ্যে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় থাকবে তদন্ত কমিশন হবে না। পরবর্তীকালে অনেক চাপে কেন্দ্রের উদ্যোগে দীনেশ সিং কমিটি গণহত্যার রহস্য উন্মোচনে তৈরী হলেও সেই কমিটির রিপোর্ট ও কেন্দ্র ও রাজ্য মিলে চাপা দিয়ে রেখেছিল যাতে রাজ্যের মানুষ জানতে না পারে কারা ৮০র জুনে বাঙালীদের সর্বনাশের জন্যে দায়ী। তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জৈল সিং অভিমত ছিল, ‘ত্রিপুরার গণহত্যা ইহুদী গণহত্যাকেও হার মানিয়েছে।’ এত কিছুর পরও শুধু রাজনৈতিক স্বার্থে কেন্দ্রের কংগ্রেস ত্রিপুরার তৎকালীন বাম সরকারের বিরুদ্ধে কোন আইনী বা সাংবিধানিক পদক্ষেপ গ্রহন করেনি বলে আজ পুনরায় দাবি উত্থাপন করা হয় বলে জানান তিনি।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য