স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২ সেপ্টেম্বর : রাজ্যে পাহাড় সমতলের মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। এক প্রকার ভাবে অগণতান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। আইনশৃঙ্খলা চরম অবনতি ঘটছে বলে আঙ্গুল তুললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অশিষ কুমার সাহা। মঙ্গলবার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনের সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি বলেন, কংগ্রেস ভাবতেও পারে না গত সোমবার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনের সামনে শাসক দলকে বিক্ষোভ কর্মসূচি সংঘটিত করার জন্য কিভাবে আরক্ষা প্রশাসন অনুমতি দিল! এবং যারা নিজেদের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দল হিসেবে দাবি করে তারা কংগ্রেস দলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হয়ে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেভাবে মন্তব্য ছুঁড়ে দিয়েছে তা শিষ্টাচারের বিষয়।
কংগ্রেস বারবারই বলে আসছে বর্তমান সরকার শিষ্টাচারের বিশ্বাসী, বিভেদগামী শক্তি এবং বিচ্ছিন্নতাবাদের মদতকারী একটা সরকার। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বিজেপি লোকতন্ত্রকে হত্যা করে আগামী দিন শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার লক্ষ্য থাকে পূরণ করতে চায়। বর্তমানে এই বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে পর্যন্ত অপদস্ত করছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা উদ্বেগের হয়ে উঠেছে। বিরোধীদলের বিধায়করা আবাসনের মধ্যে আক্রান্ত হচ্ছে। এমন ঘটনা ঘটার পর পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি। এখন স্বদলীয় বিধায়ক আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি। এবং স্বদলীয় বিধায়করা নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। প্রদেশ সভাপতি আরো বলেন, রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, দলীয় সংঘাত এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সম্পর্কে উদাসীন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বোঝার প্রয়োজন রয়েছে উনার স্বদলীয় বিধায়করাই অনাস্থা আনতে শুরু করেছে। তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা যদি রাজ্যের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে না পারেন তাহলে দায়িত্ব থেকে উনার অব্যাহতি নেওয়া প্রয়োজন।
আরো বলেন, রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের তথা পঞ্চায়েত দপ্তরের মন্ত্রী কিশোর বর্মন এক অনুষ্ঠানে গিয়ে বক্তব্য রেখে বলছেন, রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি নাকি শাসকদলের শত্রু। এটা গণতন্ত্রের কি পরিভাষা? এমনকি যে সাংবাদিকরা মানুষের কথা বলে এবং সরকারের ভালো খারাপ দিকগুলি তুলে ধরে সরকারকে সঠিক বিষয় পরিচালিত করে তাদের পর্যন্ত তৃতীয় শত্রু বলে দাবি করছেন মন্ত্রী কিশোর বর্মন। এত বড় অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে যারা সরকার পরিচালনা করছে তাদের কাছ থেকে রাজ্যবাসী আর কি আশা করতে পারে? তাই মুখ্যমন্ত্রী এবং উনার দলের বিধায়ক ও মন্ত্রীরা যদি ইতিমধ্যে সংযত না হয় তাহলে কংগ্রেস বিরোধীদল হিসেবে প্রতিরোধ করে তুলবে। এমনটাই হুঁশিয়ারি দিলেন অশেষ কুমার সাহা। আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী সহ অন্যান্যরা।

