Thursday, February 5, 2026
বাড়িরাজ্যএম বি বি এবং বি বি এম কলেজে পৃথকভাবে সৃষ্টি হলো রণক্ষেত্র,...

এম বি বি এবং বি বি এম কলেজে পৃথকভাবে সৃষ্টি হলো রণক্ষেত্র, রক্তাক্ত ১

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২২ আগষ্ট:   শুক্রবার আচমকাই রণ রূপ নিল মহারাজা বীর বিক্রম কলেজ এবং বীর বিক্রম কলেজ। প্রচার সজ্জা নষ্ট করা থেকে শুরু করে বিক্ষোভ আন্দোলন এবং প্রাক্তন ছাত্ররা মদমত্ত অবস্থায় কলেজের ভেতর প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রক্তাক্ত করার ঘটনা সামনে উঠে এসেছে এদিন। পার্শ্ববর্তী দুই কলেজের এই ঘটনা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে কলেজ ছাত্রের নিরাপত্তা কতটা রয়েছে।

এদিন সকালে প্রথমে টি এস এফ এবং অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের মধ্যে ঝামেলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ালো এম.বি.বি কলেজে। অখিল ভারতী বিদ্যার্থী পরিষদের কর্মী সমর্থকদের অভিযোগ টিএসএফ-এর কর্মী সমর্থকরা তাদের ব্যানার পতাকা ছিঁড়ে নষ্ট করে দিয়েছে। যে সকল জায়গায় তাদের সংগঠনের পতাকা লাগানো ছিল, সেই সকল জায়গায় টিএসএফ-এর পতাকা লাগিয়ে দিয়েছে।

তারা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য টিএসএফ পতাকা লাগাতে হয় অন্য জায়গায় লাগাক, কেন তাদের পতাকা ফেলে দিয়ে সেই জায়গায় টিএসএফ-এর পতাকা লাগানো হল। এই ঘটনার প্রতিবাদে এমবিবি কলেজে এইদিন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের কর্মী সমর্থকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ চত্বরে চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। এদিকে পার্শ্ববর্তী কলেজ বীর বিক্রম মেমোরিয়াল কলেজ। সেখানে কলেজের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান ঘিরে প্রাক্তন ছাত্রদের সঙ্গে ঝামেলা বাদে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের। বীর বিক্রম মেমোরিয়াল কলেজের অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সভাপতি তন্ময় ঘোষকে ছুরি দিয়ে রক্তাক্ত করে কিছু যুবক। এই ঘটনা সংগঠিত হয়েছে শুক্রবার দুপুরে নাগাদ। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, তন্ময় কলেজের চতুর্থ সেমিস্টারের ছাত্র। কলেজের মধ্যে ঘটা করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক শিক্ষিকাদের সঙ্গে দায়িত্ব নিয়েছিল প্রাক্তন ছাত্ররা। তখন প্রতিবাদ করেছিল তন্ময়।

তন্ময়ের প্রশ্ন কেন কলেজের বর্তমান ছাত্রদের এড়িয়ে প্রাক্তন ছাত্রদের দিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে? এই ঝামেলা শেষ পর্যন্ত রক্তাক্তের ঘটনা পর্যন্ত গড়ায়। তন্ময়ের বাড়ি আর কে নগর লালমাটিয়া এলাকায়। তন্ময়ের অভিযোগ শুক্রবার কলেজের প্রাক্তন ছাত্র কুণাল হরিজন, আদিত্য দেব এবং রোহান পাল মিলে তার উপর আক্রমণ করেছে। ঘটনার সময় প্রাক্তন ছাত্র সকলেই মদমত্ত অবস্থায় ছিল। গোটা ঘটনাটি শিক্ষক শিক্ষিকাদের সামনেই সংঘটিত হয়েছে। অথচ তারা অভিযুক্তদের বাধা দেয়নি। এমনকি পুলিশকে পর্যন্ত তারা ফোন করেননি। শেষ পর্যন্ত রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে জিবি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার শরীরে বিভিন্ন জায়গায় আঘাত লেগেছে। ঘটনার খবর পেয়ে অখিল ভারতের বিদ্যার্থী পরিষদের একটি টিম জিবি হাসপাতালে এসে তন্ময়ের খোঁজখবর নেন। তন্ময়ের অবস্থা স্থিতিশীল। তন্ময়ের দাবি অনুযায়ী যদি সত্যিই কলেজের শিক্ষক শিক্ষিকাদের সামনে এই ঘটনা সংঘটিত হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই কলেজের শিক্ষামূলক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

শিক্ষক শিক্ষিকাদের নিয়ন্ত্রণে নেই কলেজের পরিবেশ। শুধুমাত্র মন্ত্রী মিনিস্টার দিয়ে অনুষ্ঠান সংঘটিত করে নিজেদের বাহবা কুড়ানোর চেষ্টা করছে। এমনটি গুঞ্জন ওঠা স্বাভাবিক। পাশাপাশি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কিভাবে কলেজের মধ্যে প্রবেশ করল তারা সেটা নিয়েও আঙ্গুল উঠবে। অথচ এর জবাব কতটা দিতে পারবেন কলেজের শিক্ষক শিক্ষিকারা সেটাই এখন দেখার। এদিকে মহারাজা বীর বিক্রম কলেজের মধ্যে যে ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে সেটাও অত্যন্ত নিন্দনীয়। কলেজের আশপাশে ছাত্রের সংসদের রাজনীতি করার অধিকার সমস্ত ছাত্রের সংগঠনের রয়েছে। কিন্তু কিভাবে টিএসএফ এত সাহস পেয়েছে? অবশ্যই জনমনে প্রশ্ন উঠবে? এই রাজনীতি কতটা উপর মহল পর্যন্ত পৌঁছায় সেটা দেখার বাকি। তবে কলেজ চত্বরে এ ধরনের উত্তেজনামূলক কার্যকলাপ ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সংঘটিত করার জন্য একটা বড় ষড়যন্ত্র চলছে সেটা কিন্তু আভ্যন্তরীণ মহলের মধ্যে কান পাতলে শোনা যায়।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য