স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৪ সেপ্টেম্বর : একসময় হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা সাধারণত ৫০-এর শেষ বা ৬০-এর দশকে ধরা পড়ত। কিন্তু পরিস্থিতি এখন বদলেছে। বর্তমানে ২০ ও ৩০-এর কোঠার বহু তরুণ-তরুণীর মধ্যেও হৃদ্যন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা, বিশেষ করে অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।
HT Lifestyle-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলো হাসপাতালের কার্ডিয়াক ইলেক্ট্রোফিজিওলজির ক্লিনিক্যাল লিড এবং সিনিয়র কনসালট্যান্ট ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ও কার্ডিয়াক ইলেক্ট্রোফিজিওলজিস্ট ডা. বনিতা অরোরা এর সম্ভাব্য কারণগুলি ব্যাখ্যা করেছেন।
নিয়মিত পরীক্ষা ও স্মার্টওয়াচেও বাড়ছে শনাক্তকরণ
চিকিৎসকের মতে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা আগে শনাক্ত হওয়ার অন্যতম কারণ। এর পাশাপাশি স্মার্টওয়াচ ও ফিটনেস ট্র্যাকারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই ধরনের ডিভাইস হৃদ্স্পন্দনের পরিবর্তন রেকর্ড করতে পারে। ফলে অনিয়মিত হৃদ্ছন্দের তথ্য হাতে নিয়ে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন।
ডা. বনিতা বলেন, বর্তমানে অনিয়মিত হৃদ্ছন্দ সহজেই নথিভুক্ত হচ্ছে এবং সম্ভাব্য চিকিৎসার জন্য সেই তথ্য চিকিৎসকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
অতিরিক্ত স্টিমুল্যান্ট গ্রহণ
তবে শুধু উন্নত প্রযুক্তি ও সচেতনতা বৃদ্ধিই এর কারণ নয়। চিকিৎসকদের মতে, তরুণদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের স্টিমুল্যান্ট বা উদ্দীপক পদার্থের ব্যবহারও হৃদ্স্পন্দনের অনিয়মিততার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ডা. বনিতার কথায়, এনার্জি ড্রিঙ্ক, অতিরিক্ত ক্যাফেইন এবং বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় মাদক হৃদ্ছন্দে সমস্যা তৈরি করতে পারে। নিকোটিনও অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের অন্যতম কারণ হতে পারে।
অ্যালকোহল নিয়েও সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা। অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে হৃদ্ছন্দ অস্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে।
ঘুমের অভাব ও মানসিক চাপও দায়ী
অনিয়মিত ঘুম এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপও হৃদ্স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ডা. বনিতা জানান, অনেক তরুণ দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছেন এবং তাঁদের কর্মক্ষেত্র ও ব্যক্তিগত জীবনে নির্দিষ্ট সময়সূচির অভাব রয়েছে।
এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং পরোক্ষভাবে হৃদ্স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে পারে।
থাইরয়েডের সমস্যাও হতে পারে কারণ
কিছু শারীরিক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে থাকতে পারে, অথচ তার স্পষ্ট উপসর্গ নাও দেখা যেতে পারে। থাইরয়েডের সমস্যা তার মধ্যে অন্যতম। থাইরয়েডের ভারসাম্যহীনতার কারণেও হৃদ্স্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে।
এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ এবং জন্মগত কাঠামোগত হৃদ্যন্ত্রের ত্রুটিও অনিয়মিত হৃদ্ছন্দের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
কোন উপসর্গে সতর্ক হবেন?
চিকিৎসকের মতে, হঠাৎ হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং আবার হঠাৎ স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া, অথবা বারবার কয়েক সেকেন্ড কিংবা তার বেশি সময় ধরে হৃদ্কম্পন বা বুকের মধ্যে ফ্লাটারের মতো অনুভূতি হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
এর সঙ্গে যদি মাথা ঘোরা, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান