Saturday, September 19, 2026
বাড়ি স্বাস্থ্য ভারতে পরোক্ষ ধূমপানে মৃত্যু বেড়েছে প্রায় ৫০%, চাঞ্চল্যকর তথ্য ল্যানসেটের গবেষণায়

ভারতে পরোক্ষ ধূমপানে মৃত্যু বেড়েছে প্রায় ৫০%, চাঞ্চল্যকর তথ্য ল্যানসেটের গবেষণায়

ভারতে পরোক্ষ ধূমপানে মৃত্যু বেড়েছে প্রায় ৫০%, চাঞ্চল্যকর তথ্য ল্যানসেটের গবেষণায়

 

 

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১০ সেপ্টেম্বর : পরোক্ষ ধূমপান বা অন্যের ধূমপানের ধোঁয়ার সংস্পর্শে এসে ভারতে মৃত্যুর সংখ্যা ২০২৩ সালে ১৯৯০ সালের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। তবে একই সময়ে জনসংখ্যার অনুপাতে মৃত্যুহার প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। The Lancet Public Health- প্রকাশিত একটি বৈশ্বিক বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে।

সমীক্ষার হিসাব অনুযায়ী, ভারতে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে থাকা মানুষের সংখ্যা ১৯৯০ সালের ৩৭ কোটি ৫০ লক্ষ থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে প্রায় ৪৪ কোটি ৪০ লক্ষ হয়েছেঅর্থাৎ বৃদ্ধি প্রায় ১৮. শতাংশ। অন্যদিকে, বয়স-সমন্বিতভাবে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসার হার ১৯৯০ সালের ৪৩. শতাংশ থেকে কমে ২০২৩ সালে ৩০. শতাংশ হয়েছে।

‘Global Burden of Disease (GBD) 2023 Second-hand Smoke Collaborators’-এর আন্তর্জাতিক গবেষক দল ২০৪টি দেশ অঞ্চলে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শ এবং এর কারণে তৈরি স্বাস্থ্যঝুঁকি রোগের বোঝা বিশ্লেষণ করেছে।

গবেষকদের মতে, ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৭১ কোটি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৬ কোটি ৭০ লক্ষ। বিশ্বব্যাপী পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসার হার ছিল ৩৩. শতাংশ।

চীন, ভারত ইন্দোনেশিয়ায় পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে থাকা মানুষের সংখ্যা ছিল বিশ্বের মোট সংখ্যার প্রায় অর্ধেক। ২০২৩ সালে চীনে প্রায় ৬৬ কোটি ৪০ লক্ষ, ভারতে ৪৪ কোটি ৪০ লক্ষ এবং ইন্দোনেশিয়ায় ১৪ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ এই ধোঁয়ার সংস্পর্শে ছিলেন।

ভারতে ১৯৯০ সালে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রায় লক্ষ ১৭ হাজার ৭০০। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় লক্ষ ২৫ হাজার ৬০০। তবে প্রতি এক লক্ষ জনসংখ্যায় মৃত্যুহার ১৯৯০ সালের ৪৬. থেকে কমে ২০২৩ সালে ৩০- নেমেছেঅর্থাৎ প্রায় ৩৫ শতাংশ হ্রাস।

নয়াদিল্লির Pushpawati Singhania Hospital and Research Institute-এর পালমোনোলজিস্ট সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. নীতু জৈন বলেন, সামগ্রিক মৃত্যুহার কমলেও পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে থাকা মানুষের প্রকৃত সংখ্যা এখনও বাড়ছে।

তিনি জানান, পরোক্ষ ধূমপানের কারণে হৃদ্যন্ত্র শ্বাসযন্ত্রের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে করোনারি আর্টারি ডিজিজে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও উদ্বেগজনক হতে পারে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী পরোক্ষ ধূমপানের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির ১২ শতাংশেরও বেশি শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। এর মধ্যে নিম্ন শ্বাসনালির সংক্রমণ অন্যতম বড় কারণ।

ডা. জৈনের মতে, ধূমপায়ীরা অন্যদের ধোঁয়ার সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখার ব্যবস্থা নিলে পরোক্ষ ধূমপান অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। বাড়ির বাইরে এবং বন্ধ জায়গা থেকে দূরে ধূমপান করলে পরিবারের সদস্য শিশুদের ঝুঁকি কমতে পারে।

তিনি বলেন, শিশুদের ফুসফুস এখনও বিকাশমান হওয়ায় তামাকের ধোঁয়ার সংস্পর্শ তাদের শ্বাসযন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। একইসঙ্গে ধূমপান ছাড়ার বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি।

 

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha