স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১০ সেপ্টেম্বর : ধোঁয়া ওঠা গরম চা বা কফি অনেকেরই প্রতিদিনের অভ্যাস। কিন্তু অত্যন্ত গরম অবস্থায় নিয়মিত এই ধরনের পানীয় পান করলে খাদ্যনালির ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রায় ৯ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৮২ জন মধ্যবয়সি নারী ও পুরুষের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। অত্যন্ত গরম পানীয় এবং খাদ্যনালির ক্যানসারের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে এটি অন্যতম বৃহৎ গবেষণা বলে জানানো হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা চা বা কফি খুব গরম অবস্থায় পান করেন, তাঁদের খাদ্যনালির ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে উষ্ণ পানীয় পানকারীদের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি ছিল।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, খাদ্যনালির ক্যানসার এখনও তুলনামূলকভাবে বিরল। তাই খুব গরম চা বা কফি পান করলেই ক্যানসার হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর কারণ নেই।
গবেষণায় ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার পানীয়কে ‘অত্যন্ত গরম’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এই তাপমাত্রার পানীয় খাদ্যনালির আবরণে বারবার জ্বালা বা ক্ষত তৈরি করতে পারে।
সদ্য ফুটানো পানীয়ের তাপমাত্রা এর থেকেও অনেক বেশি হতে পারে। ফুটন্ত জল প্রায় ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় থাকে এবং কাপের মধ্যে ঢালার পরও চা বা কফির তাপমাত্রা প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে।
তাই বিশেষজ্ঞরা সদ্য তৈরি করা গরম পানীয় পান করার আগে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে, তার নির্দিষ্ট কোনও সর্বজনস্বীকৃত সময় নেই। কারণ পানীয়ের পরিমাণ, কাপের ধরন, ঘরের তাপমাত্রা এবং দুধ মেশানো হয়েছে কি না—এসবের ওপর ঠান্ডা হওয়ার গতি নির্ভর করে।
অত্যন্ত গরম পানীয় খাদ্যনালির কী ক্ষতি করতে পারে?
খাদ্যনালি হল এমন একটি নালি, যার মাধ্যমে মুখ থেকে খাবার ও পানীয় পাকস্থলীতে পৌঁছয়। অত্যন্ত গরম তরল এর মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় খাদ্যনালির কোষে তাপজনিত ক্ষতি করতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে বারবার অত্যন্ত গরম পানীয় পান করলে খাদ্যনালিতে জ্বালা ও ক্ষতি হতে পারে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই ধরনের বারবার ক্ষত তৈরি হওয়া এবং শরীরের কোষ মেরামতের প্রক্রিয়া পরবর্তীতে এমন কিছু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
তবে তাপমাত্রা, পানীয় পানের পরিমাণ ও ঘনত্ব এবং পানীয়ের ধরন কীভাবে এই ঝুঁকিকে প্রভাবিত করে, তা আরও ভালোভাবে বুঝতে ভবিষ্যতে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
দিনে বেশি গরম পানীয় খেলেও ঝুঁকি বাড়তে পারে
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দিনে ছয় বা তার বেশি কাপ গরম পানীয় পান করার সঙ্গে খাদ্যনালির ক্যানসারের বেশি ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিদিন কয়েক কাপ চা বা কফি পান করলেই কারও ক্যানসার হবে। ক্যানসারের ঝুঁকিতে ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণের মতো অন্যান্য কারণের প্রভাব অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং তামাক এড়িয়ে চলা ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চায়ে দুধ মেশালে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে সদ্য তৈরি পানীয় সঙ্গে সঙ্গে পান করলে দুধ মেশানো চাও অত্যন্ত গরম থাকতে পারে।
চা বা কফি কীভাবে নিরাপদে পান করবেন?
চা বা কফি সম্পূর্ণ বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। বরং পানীয়টি অত্যন্ত গরম অবস্থায় পান না করাই সহজতম উপায়।
পানীয়টি এমনভাবে ঠান্ডা হতে দিন যাতে আরামে চুমুক দেওয়া যায়। ফুটন্ত জল কাপের মধ্যে ঢালার পর কয়েক মিনিট অপেক্ষা করলেই তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
বিশেষ করে দোকান বা রেস্তোরাঁ থেকে কেনা ‘এক্সট্রা হট’ পানীয়ের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা উচিত। অনেক সময় বাণিজ্যিকভাবে পরিবেশিত কফির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।
খাদ্যনালির ক্যানসারের সতর্কতামূলক লক্ষণ
খাদ্যনালির ক্যানসারের কিছু উপসর্গ শুরুতে সাধারণ হজমের সমস্যার মতো মনে হতে পারে।
সম্ভাব্য সতর্কতামূলক লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে—দীর্ঘস্থায়ী বুকজ্বালা, বদহজম, গিলতে অসুবিধা, গলা বা বুকে ব্যথা এবং কোনও কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া।
তবে এই উপসর্গগুলির উপস্থিতি মানেই ক্যানসার হয়েছে এমন নয়। কিন্তু কোনও অস্বাভাবিক বা দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান