স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৪ সেপ্টেম্বর :সন্তান জন্মের পর মায়েদের অনেকেরই মনে প্রশ্ন থাকে—তাঁরা যা খাচ্ছেন বা পান করছেন, তার কোনও উপাদান স্তনের দুধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে পৌঁছে যাচ্ছে কি না। কফি নিয়েও একই উদ্বেগ দেখা যায়।
অতিরিক্ত ক্যাফেইন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও অস্থিরতা, হৃদ্কম্পন এবং ঘুমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। ফলে সদ্যোজাত শিশুর উপর এর কোনও প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে মায়েদের চিন্তা থাকা স্বাভাবিক। তবে সন্তান জন্মের পর ঘুমের ঘাটতি ও শারীরিক ক্লান্তির কারণে অনেক মা শক্তি পাওয়ার জন্য কফির উপর নির্ভর করেন।
তাহলে স্তন্যদানকারী মায়েদের কি কফি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হবে?
বিশেষজ্ঞের বক্তব্য
স্তন ক্যানসার চিকিৎসা ও অনকোপ্লাস্টিক সার্জারির কনসালট্যান্ট ডা. প্রগতি সিঙ্ঘল জানিয়েছেন, সন্তান জন্মের প্রায় দুই সপ্তাহ পর অনেক নতুন মা তাঁকে প্রশ্ন করেন—‘আমি কি আবার কফি খেতে পারি?’
তাঁর উত্তর, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কফি খাওয়া যায়, তবে পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি।
চিকিৎসকের মতে, মা কফি, চা বা অন্য কোনও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান করলে তার খুব সামান্য অংশই স্তনের দুধে পৌঁছায়। স্বাস্থ্যবান ও পূর্ণ মেয়াদে জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রে পরিমিত ক্যাফেইন সাধারণত বড় কোনও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে না।
ডা. সিঙ্ঘল বলেন, মায়ের গ্রহণ করা ক্যাফেইনের প্রায় ১ শতাংশের বেশি সাধারণত রক্ত এবং পরে স্তনের দুধে পৌঁছায় না। ফলে সুস্থ ও পূর্ণ মেয়াদে জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রে এটি সাধারণত ক্ষতিকর নয়।
তবে অপরিণত শিশুর ক্ষেত্রে সতর্কতা
যদিও অধিকাংশ শিশুর ক্ষেত্রে পরিমিত ক্যাফেইন নিয়ে বড় সমস্যা হয় না, তবে সময়ের আগে জন্ম নেওয়া বা প্রিম্যাচিওর শিশুর ক্ষেত্রে বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কারণ তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এখনও সম্পূর্ণ পরিণত না হওয়ায় শরীর থেকে ক্যাফেইন বের করতে বেশি সময় লাগতে পারে।
তিন মাসের কম বয়সী শিশুরাও তুলনামূলকভাবে বেশি সংবেদনশীল হতে পারে, বিশেষ করে মা যদি বেশি পরিমাণে ক্যাফেইন গ্রহণ করেন।
এই পরিস্থিতিতে এক থেকে দুই সপ্তাহ ক্যাফেইন গ্রহণ কমিয়ে শিশুর আচরণ পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। শিশুর অস্থিরতা বা ঘুমের সমস্যা চলতে থাকলে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শিশুর মধ্যে কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?
কিছু
ক্ষেত্রে ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতার কারণে শিশুর মধ্যে দেখা দিতে পারে—
- অস্বাভাবিক খিটখিটে ভাব
- দুধ খাওয়ানোর পর শান্ত হতে না পারা
- ঘুম বারবার ভেঙে যাওয়া বা স্বাভাবিক ঘুমের ব্যাঘাত
তবে এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলেই যে ক্যাফেইনই কারণ, তা ধরে নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
শুধু কত কাপ কফি নয়, ক্যাফেইনের পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ
ক্যাফেইন গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু কত কাপ কফি বা চা খাওয়া হচ্ছে, তা গণনা করাই যথেষ্ট নয়। পানীয়টির ধরন এবং তার শক্তিও গুরুত্বপূর্ণ।
একটি বড় বা বেশি ঘন কফিতে সাধারণ ঘরোয়া কফির তুলনায় অনেক বেশি ক্যাফেইন থাকতে পারে। তাই কাপের সংখ্যা নয়, প্রতি কাপে মোট ক্যাফেইনের পরিমাণের দিকে নজর দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
দিনে কতটা ক্যাফেইন নিরাপদ?
ডা. সিঙ্ঘল স্তন্যদানকারী মায়েদের দিনে মোটামুটি ২০০ থেকে ৩০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এটি কফির ধরন ও ঘনত্ব অনুযায়ী আনুমানিক দুই কাপ ছোট মাপের ব্রিউড কফি অথবা তিন থেকে চার কাপ চায়ের সমতুল্য হতে পারে।
তবে ক্যাফে লাতে, এসপ্রেসো বা অন্যান্য শক্তিশালী কফিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারে। তাই ‘দুই কাপ’ বা ‘তিন কাপ’ হিসাবের পরিবর্তে পানীয়টির প্রকৃত ক্যাফেইন কনটেন্ট বিবেচনা করা ভালো।
কখন কফি পান করলে ভালো?
ডা. সিঙ্ঘলের মতে, শিশুকে দুধ খাওয়ানোর ঠিক আগে কফি পান করার পরিবর্তে দুধ খাওয়ানোর পর কফি পান করা কিছুটা বেশি সুবিধাজনক হতে পারে। বিশেষ করে পরবর্তী ফিডের মধ্যে দুই থেকে তিন ঘণ্টার ব্যবধান থাকলে পরবর্তী সময়ে স্তনের দুধে ক্যাফেইনের পরিমাণ কিছুটা কমে যেতে পারে।
সুতরাং, সুস্থ ও পূর্ণ মেয়াদে জন্ম নেওয়া অধিকাংশ শিশুর ক্ষেত্রে মায়ের পরিমিত কফি পান নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগের প্রয়োজন নেই। তবে শিশুর বয়স, জন্মের সময়কাল, ক্যাফেইনের পরিমাণ এবং শিশুর আচরণ—সবকিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান